ঢাকা: কূটনৈতিক স্তরে নানা টানাপোড়েন ও বৈরী সম্পর্কের আবহ তৈরি হলেও প্রতিবেশীর চরম সংকটে ফের একবার ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো ভারত। বাংলাদেশে তৈরি হওয়া ঘোর অমাবস্যার আশঙ্কার মাঝেই ওপার বাংলায় বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করল নয়াদিল্লি। সম্প্রতি তারেক রহমান সরকারের এক মন্ত্রীর পক্ষ থেকে আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল যে, জ্বালানি সংকটের কারণে আর কয়েকদিনের মধ্যে দেশজুড়ে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই প্রতিবেশীর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বিদ্যুৎ পাঠাতে শুরু করেছে ভারত, পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ দীর্ঘ পাইপলাইন মারফত রওনা হয়ে গেছে টন টন ডিজেল।বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে ভারতের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একগুচ্ছ কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বহু বছর ধরেই চুক্তিভিত্তিক ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে আসছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমঝোতার আওতায় বর্তমানে নয়াদিল্লি থেকে প্রায় ২,৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পৌঁছায় বাংলাদেশে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসি থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার কেন্দ্র থেকে পৃথক চুক্তিতে মোট ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এই কেন্দ্রগুলির ১,১৬০ মেগাওয়াটের চুক্তিপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আদানি পাওয়ার বাংলাদেশের কাছে ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পৌঁছাচ্ছে।অন্যদিকে, ভারতের এই তাৎক্ষণিক সাহায্যের সবচেয়ে বড় অংশ পৌঁছেছে পেট্রোপণ্যে। ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন বা ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রিসিভিং টার্মিনাল ডিপোতে পাঠানো সম্পূর্ণ হয়েছে। দিনাজপুর ডিপোর স্টেশন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া জ্বালানি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিরাপদে শেষ হয়েছে। এই বিপুল জ্বালানি বাংলাদেশের পেট্রোলিয়াম সেক্টরের তিনটি প্রধান স্তম্ভ—পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলের মাধ্যমে সমানভাবে দেশের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতের জন্য বিতরণ শুরু হয়ে গিয়েছে।উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় ১৫ বছর মেয়াদি এক দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির অধীনে প্রায় ২০ লাখ টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে চালু হওয়া ১২৬.৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পঞ্চগড়-নীলফামারী সীমান্ত পারাপারকারী পাইপলাইন দিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৩.৩ লাখ টন ডিজেল বাংলাদেশে সফলভাবে পৌঁছেছে। রাজকূটনীতির শীতলতা যাই থাকুক না কেন, কঠিন সময় এলে ভারতীয় জ্বালানিই যে ঢাকার অন্ধকারে মূল আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা আবার প্রমাণিত হলো।