জলপাইগুড়ি: উত্তরবঙ্গে পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের শিকড় কতটা গভীরে ছড়িয়েছে, তা নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই জলপাইগুড়ির বুক থেকে ফাঁস হলো এক রোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোপন খবরের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে উত্তর রায়কত পাড়ার বৃহন্নলা কুঠিতে স্থানীয় পুলিশ ও বিএসএফের যৌথ বাহিনী ঝটিকা অভিযান চালিয়ে পিপাসা নামে এক ‘গুরুমা’ বৃহন্নলাকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ, ভারতীয় ভূখণ্ডে ঘাপটি মেরে বসে বাংলাদেশি সক্রিয় সিম কার্ড ব্যবহার করে নিয়মিত পাকিস্তান ও বাংলাদেশে যোগাযোগ রেখে চলত সে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলা এই ম্যারাথন তল্লাশি অভিযানে উদ্ধার হয়েছে দুটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ, দুটি ম্যাগাজিন এবং একাধিক বাংলাদেশি সিম কার্ড, যা দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছেন দুঁদে গোয়েন্দারাও।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, সম্প্রতি গোপনে পাকিস্তানেও ঘুরে এসেছিল পিপাসা, যা থেকে আন্তর্জাতিক চরবৃত্তির সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সম্প্রতি মনসা পূজার আগে ও পরে সীমান্ত পেরিয়ে অন্তত ৩৫ জন বাংলাদেশি বৃহন্নলা ওই ডেরায় এসে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে গিয়েছে। ধর্মীয় বা সামাজিক আচারের আড়ালে তারা আসলে কী উদ্দেশ্যে সেখানে জমায়েত হয়েছিল এবং সীমান্তের ওপারে কী ধরনের সংবেদনশীল তথ্য পাচার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দারা এখন ম্যারাথন জেরা চালাচ্ছেন। যদিও ধৃত পিপাসার দাবি, সে সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং তাঁর ডেরা থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, কিন্তু কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা এই যুক্তিতে কোনো আমল দিতে নারাজ।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই কোচবিহার ও উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকা থেকে পাক চর সন্দেহে একাধিক সন্দেহভাজনকে পাকড়াও করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। ভুয়ো নামে ভারতীয় সিম কার্ড তুলে ওটিপি বাইপাস করে আইএসআইয়ের হাতে সংবেদনশীল ডেটা পৌঁছে দেওয়ার যে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে, তার সঙ্গেই এই বৃহন্নলা চক্রের কোনো প্রত্যক্ষ লেনদেন ছিল কি না, তা এখন প্রশাসনের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তবর্তী জলপাইগুড়িতে রূপান্তরকামী পরিচয়ের আড়ালে চলা এই গভীর আন্তর্জাতিক চক্রান্তের জাল কতটা বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় জেরা চলছে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন