প্রেমের সম্পর্ক হোক কিংবা দাম্পত্য, মতের অমিল হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কখনও ছোট কোনও বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য, কখনও আবার শুরু হয় বড়সড় ঝামেলা। তবে সম্পর্কের এই টানাপোড়েনে একটি বিষয় প্রায়ই দেখা যায়, অশান্তি থামাতে দু’জনের মধ্যে একজন দ্রুত পিছিয়ে আসেন। বিভিন্ন গবেষণায় এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গিয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে সেই ভূমিকা নেন পুরুষ সঙ্গীরাই। অশান্তির সময় অনেক পুরুষই ঝগড়া আরও বাড়ানোর বদলে চুপ করে যাওয়াকে বেছে নেন। সামনে থেকে পালটা যুক্তি না দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এমনকি গবেষণার একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৭৯ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষরা নিজের ভুল না থাকলেও শুধু ঝামেলা মেটাতে ক্ষমা চেয়ে নেন।
কিন্তু কেন এমনটা করেন তাঁরা?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এর পিছনে রয়েছে সংঘাত এড়ানোর প্রবণতা। অন্যদিকে, অশান্তির সময় দু’জনের প্রতিক্রিয়া সবসময় একরকম হয় না। একজন হয়তো সমস্যাটা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলে সমাধানে যেতে চান, অন্যজন আবার দ্রুত বিষয়টি শেষ করতে চান। এই পার্থক্য থেকেই অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি আরও বাড়ে। তবে সবসময় চুপ করে থাকা বা নিজের দোষ না থাকলেও ক্ষমা চেয়ে নেওয়া যে স্বাস্থ্যকর, তা নয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বারবার নিজের অনুভূতি চেপে রেখে শুধু পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করলে ভেতরে জমতে পারে ক্ষোভ, অভিমান এবং অসন্তোষ। একটা সময় সেই চাপ অন্য কোনও বড় অশান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
তাই সম্পর্কের ঝামেলায় শুধু কে আগে ‘সরি’ বললেন, সেটাই আসল নয়। কারও ভুল হলে ক্ষমা চাওয়া অবশ্যই সম্পর্কের পরিণত আচরণের অংশ। কিন্তু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব সবসময় এক পক্ষের উপর পড়া উচিত নয়। স্বাস্থ্যকর সম্পর্কে প্রয়োজন দু’জনেরই কথা বলা, শোনা এবং নিজের অবস্থান বদলানোর মানসিকতা।
বিষয় : Relationship Problem

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন