Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Arit Dattagupta Jalpaiguri: বংশে নেই মৃৎশিল্পের দূরতম যোগও, তবুও মাটির অমোঘ টানে ১৪ বছরের কিশোরের হাতে প্রাণ পেল ‘চাঁদের দুর্গা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
Arit Dattagupta Jalpaiguri: বংশে নেই মৃৎশিল্পের দূরতম যোগও, তবুও মাটির অমোঘ টানে ১৪ বছরের কিশোরের হাতে প্রাণ পেল ‘চাঁদের দুর্গা’
অরিত ও তার 'চাঁদের দুর্গা'। জলপাইগুড়িতে তোলা ছবি

জলপাইগুড়ি: পরিবারের কারও সঙ্গে মৃৎশিল্পের দূরতম নাড়ির যোগ নেই। 

বংশে নেই প্রতিমা গড়ার প্রথাও। কিন্তু কাদা মাটি আর খড়কুটোর গন্ধই যেন টেনে নিয়ে গিয়েছিল তাঁকে। রক্তে না থাকলেও সেই মাটির নেশাকেই সঙ্গী করে ক্যানভাসে বিপ্লব ঘটাল ১৪ বছরের কিশোর অরিত দত্তগুপ্ত। 

বয়স যখন আর পাঁচটা সাধারণ শিশুর মতো স্রেফ খেলাধুলো বা পড়াশোনায় মেতে থাকার, ঠিক তখনই নিজের নিখুঁত সৃজনশীলতায় আস্ত এক দুর্গাপ্রতিমা গড়ে তাক লাগিয়ে দিল জলপাইগুড়ির এই নবম শ্রেণির ছাত্র।

জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের বেলাকোবার শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আদর্শপাড়ার বাসিন্দা অরিত বেলাকোবা হাইস্কুলের ছাত্র। বয়স মাত্র ১৪। ছোটবেলা থেকেই মাটির তৈরি বস্তুর প্রতি এক অদৃশ্য আকর্ষণ কাজ করত তার ভেতরে। 

পাড়ার কুমোরপাড়া থেকে কাদা মাটি চেয়ে এনে খুদে হাতে বানাতে শুরু করেছিল ছোট ছোট পুতুল। সেই নিছক খেলার শখই সময়ের সঙ্গে রূপ নেয় গভীর শিল্পসাধনায়। ২০২২ সালে মাত্র পাঁচ ইঞ্চির একটি ছোট্ট প্রতিমা তৈরি করে তার এই অভাবনীয় যাত্রা শুরু হয়েছিল। 

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একে একে সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক, গণেশ থেকে শুরু করে শিব, ছিন্নমস্তা, এমনকি সিমেন্ট দিয়ে বজরঙ্গবলীর চাহিদাপূর্ণ মূর্তিও গড়ে তোলে অরিত। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে নিজের হাতে গড়েছিল দুই ফুট দুই ইঞ্চির কালীপ্রতিমা।

তবে এবারের চমক একেবারেই অন্য স্তরের। পড়াশোনা সামলে মাত্র ১৫ দিনের একনিষ্ঠ পরিশ্রমে অরিত তৈরি করে ফেলেছে দুই ফুট সাত ইঞ্চির এক অপরূপ দুর্গাপ্রতিমা। ভালবেসে যার নাম সে দিয়েছে ‘চাঁদের দুর্গা’! 

পেশাদার শিল্পীদের মত কোনও  প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই এই খুদে শিল্পীর নিখুঁত তুলির টান দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছেন অভিজ্ঞরা। প্রতিমাটিকে রাজকীয় ও আকর্ষণীয় রূপ দিতে অরিত ব্যবহার করেছে সাদা, কালো, লাল, হলুদ, নীল, সবুজ ও বাদামি সহ মোট ১৭ রকমের অনন্য রঙের সমন্বয়।

অরিতের এই সৃষ্টি প্রমাণ করে দিল যে, শিল্পকলার জন্য বংশপরম্পরা বা পারিবািরক পেশার প্রয়োজন পড়ে না। ইচ্ছাশক্তি, অধ্যাবসায় আর অনুরাগের টান থাকলে যেকোনো বয়সেই অলৌকিক সৃষ্টি সম্ভব। মাটির টানে ভেসে চলা রাজগঞ্জের এই খুদে কারিগরকে ঘিরে এখন পুরো বেলাকোবা জুড়ে শুধুই গর্ব আর প্রশংসার সুর।

বিষয় : #Jalpaiguri #YoungArtist #DurgaPuja2026 #ClayArt #ChanderDurga #Belakoba #TalentedKid #DurgaIdol #HiddenStoriesNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


Arit Dattagupta Jalpaiguri: বংশে নেই মৃৎশিল্পের দূরতম যোগও, তবুও মাটির অমোঘ টানে ১৪ বছরের কিশোরের হাতে প্রাণ পেল ‘চাঁদের দুর্গা’

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
জলপাইগুড়ি: পরিবারের কারও সঙ্গে মৃৎশিল্পের দূরতম নাড়ির যোগ নেই। বংশে নেই প্রতিমা গড়ার প্রথাও। কিন্তু কাদা মাটি আর খড়কুটোর গন্ধই যেন টেনে নিয়ে গিয়েছিল তাঁকে। রক্তে না থাকলেও সেই মাটির নেশাকেই সঙ্গী করে ক্যানভাসে বিপ্লব ঘটাল ১৪ বছরের কিশোর অরিত দত্তগুপ্ত। বয়স যখন আর পাঁচটা সাধারণ শিশুর মতো স্রেফ খেলাধুলো বা পড়াশোনায় মেতে থাকার, ঠিক তখনই নিজের নিখুঁত সৃজনশীলতায় আস্ত এক দুর্গাপ্রতিমা গড়ে তাক লাগিয়ে দিল জলপাইগুড়ির এই নবম শ্রেণির ছাত্র।জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের বেলাকোবার শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আদর্শপাড়ার বাসিন্দা অরিত বেলাকোবা হাইস্কুলের ছাত্র। বয়স মাত্র ১৪। ছোটবেলা থেকেই মাটির তৈরি বস্তুর প্রতি এক অদৃশ্য আকর্ষণ কাজ করত তার ভেতরে। পাড়ার কুমোরপাড়া থেকে কাদা মাটি চেয়ে এনে খুদে হাতে বানাতে শুরু করেছিল ছোট ছোট পুতুল। সেই নিছক খেলার শখই সময়ের সঙ্গে রূপ নেয় গভীর শিল্পসাধনায়। ২০২২ সালে মাত্র পাঁচ ইঞ্চির একটি ছোট্ট প্রতিমা তৈরি করে তার এই অভাবনীয় যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একে একে সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক, গণেশ থেকে শুরু করে শিব, ছিন্নমস্তা, এমনকি সিমেন্ট দিয়ে বজরঙ্গবলীর চাহিদাপূর্ণ মূর্তিও গড়ে তোলে অরিত। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে নিজের হাতে গড়েছিল দুই ফুট দুই ইঞ্চির কালীপ্রতিমা।তবে এবারের চমক একেবারেই অন্য স্তরের। পড়াশোনা সামলে মাত্র ১৫ দিনের একনিষ্ঠ পরিশ্রমে অরিত তৈরি করে ফেলেছে দুই ফুট সাত ইঞ্চির এক অপরূপ দুর্গাপ্রতিমা। ভালবেসে যার নাম সে দিয়েছে ‘চাঁদের দুর্গা’! পেশাদার শিল্পীদের মত কোনও  প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই এই খুদে শিল্পীর নিখুঁত তুলির টান দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছেন অভিজ্ঞরা। প্রতিমাটিকে রাজকীয় ও আকর্ষণীয় রূপ দিতে অরিত ব্যবহার করেছে সাদা, কালো, লাল, হলুদ, নীল, সবুজ ও বাদামি সহ মোট ১৭ রকমের অনন্য রঙের সমন্বয়।অরিতের এই সৃষ্টি প্রমাণ করে দিল যে, শিল্পকলার জন্য বংশপরম্পরা বা পারিবািরক পেশার প্রয়োজন পড়ে না। ইচ্ছাশক্তি, অধ্যাবসায় আর অনুরাগের টান থাকলে যেকোনো বয়সেই অলৌকিক সৃষ্টি সম্ভব। মাটির টানে ভেসে চলা রাজগঞ্জের এই খুদে কারিগরকে ঘিরে এখন পুরো বেলাকোবা জুড়ে শুধুই গর্ব আর প্রশংসার সুর।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত