কলকাতা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর চলা ধারাবাহিক নৃশংসতা থামার কোনও লক্ষণ নেই! গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দু'টি জেলায় তিন হিন্দু যুবককে কট্টরপন্থীদের হাতে প্রাণ হারাতে হয়েছে। এই নিয়ে গত তিন সপ্তাহে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে অন্তত ৭ জন হিন্দু হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন! এর পাশাপাশি ঝিনাইদহে এক হিন্দু বিধবাকে গণধর্ষণ ও অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী ঘটনাবলী:
নরসিংদীতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুন (৬ জানুয়ারি, ২০২৬): মঙ্গলবার বাংলাদেশের নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় প্রান্তুষ সরকার (৪২) নামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন করে হামলাকারীরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন সকালে প্রান্তুষ সরকারকে তাঁর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় আততায়ীরা। বাইরে বেরোতেই তাঁকে লক্ষ করে গুলি করে তারা। এরপর গুরুতর জখম ওই ব্যক্তিকে নিয়ে প্রতিবেশীরা হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু, মাঝরাস্তাতেই মৃত্যু হয় তাঁর।
যশোরে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী খুন (৫ জানুয়ারি, ২০২৬): সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ছ'টা নাগাদ (স্থানীয় সময় অনুসারে) যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার কোপালিয়া বাজারে রাণাপ্রতাপ বৈরাগী (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে খুন করা হয়। তিনি স্থানীয় একটি বরফ কারখানার মালিক এবং নড়াইল থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক বিডি খবর’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মোটরবাইকে আসা তিন দুষ্কৃতী তাঁকে কারখানা থেকে ডেকে পার্শ্ববর্তী একটি গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর মাথায় তিনটি গুলি করার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁর গলার নলি কেটে দেওয়া হয়।
নরসিংদীতে মুদি দোকানিকে কুপিয়ে খুন (৫ জানুয়ারি, ২০২৬): অন্যদিকে, সোমবারই রাত ১০টা নাগাদ নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজারে মণি চক্রবর্তী (৪০) নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। নিজের মুদি দোকানে থাকাকালীন একদল অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের দাবি, ধর্মীয় পরিচয়ই তাঁর উপর হওয়া এই হামলার মূল কারণ।
গত তিন সপ্তাহের নিহতের তালিকা ও প্রেক্ষাপট:
গত ১৮ ডিসেম্বর (২০২৫) থেকে ৬ জানুয়ারি (২০২৬) পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৬ জন হিন্দুকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এঁরা হলেন -
প্রান্তুষ সরকার (৬ জানুয়ারি, ২০২৬): নরসিংদীতে গুলি করে খুন।
মণি চক্রবর্তী (৫ জানুয়ারি, ২০২৬): নরসিংদীতে দোকানে ঢুকে কুপিয়ে খুন।
রাণা প্রতাপ বৈরাগী (৫ জানুয়ারি, ২০২৬): যশোরে গুলি করে ও গলা কেটে খুন।
খোকনচন্দ্র দাস (মৃত্যু ৩ জানুয়ারি, ২০২৬): ৩১ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ফেরার পথে তাঁকে কুপিয়ে এবং তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় কট্টরপন্থীরা। তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষমেশ হাসপাতালে প্রাণ যায় তাঁর।
বজেন্দ্র বিশ্বাস (২৯-৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫): ময়মনসিংহের ভালুকায় কর্মরত অবস্থায় তাঁকে গুলি করে খুন করা হয়।
অমৃত মণ্ডল (২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫): রাজবাড়ীতে তথাকথিত চাঁদাবাজির অভিযোগে উন্মত্ত জনতা তাঁকে পিটিয়ে খুন করে।
দীপুচন্দ্র দাস (১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫): ময়মনসিংহে তথাকথিত 'ধর্ম অবমাননার' অভিযোগে দীপুকে পিটিয়ে হত্যা করে তাঁর দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশজুড়ে শিকেয় সংখ্যালঘু সুরক্ষা:
এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি সম্প্রতি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক হিন্দু বিধবাকে জমি সংক্রান্ত বিবাদে গণধর্ষণ করা হয় ও গাছে বেঁধে তাঁর চুল কেটে নেওয়া হয়! এই ঘটনা মানবাধিকার সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতে, একের পর এক ‘টার্গেট কিলিং’ এবং কট্টরপন্থীদের বেপরোয়া আচরণ প্রমাণ করছে যে বাংলাদেশে বর্তমান অন্তর্বর্তী ইউনূস প্রশাসনের আমলে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। যদিও প্রশাসন তদন্তের আশ্বাস দিচ্ছে। তবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা সংখ্যালঘু জীবনের উপর কালো ছায়া ফেলছে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ, কলকাতা/সুপর্ণা/এসএইচকে

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন