বশিরহাট: সন্দেশখালিতে তাদের উপর হামলার ঘটনায় অবশেষে সাফল্য পেল পুলিশ। ধরা পড়ল ঘটনায় মূল অভিযুক্ত 'কুখ্যাত' মুসা মোল্লা।
জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালায় ন্যাজাট থানার পুলিশ। এই অভিযানেই পাকড়াও করা হয় 'শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ' মুসা মোল্লাকে। মঙ্গলবার সকালে এই খবর জানাজানি হতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। এই নিয়ে এই ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১৩। ধৃতকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
এই ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার রাতে। বসিরহাটের ন্যাজাট থানার বয়রমারি-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চ্যাঁচড়া এলাকায় একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। আদালতের নির্দেশে ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও, এলাকায় 'শেখ শাহজাহানের অনুগামী' হিসাবে পরিচিত মুসা মোল্লা জোর করে ওই জমিতে নোনা জল ঢুকিয়ে মাছের ভেড়ি তৈরির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুসাকে আটক করে। কিন্তু, ঠিক সেই মুহূর্তেই হামলা করে মুসার অনুগামীরা। তারা পুলিশকে মারধর করে, গাড়ি ভাঙচুর করে এবং মুসা মোল্লাকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়।
এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালির সরবেড়িয়ায় ইডি আধিকারিকদের উপর হামলার স্মৃতি উস্কে দিয়েছে। সেদিনও তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত নেতা শেখ শাহজাহানকে ধরতে গিয়ে একইভাবে জনরোষের মুখে পড়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। স্থানীয়দের দাবি, শাহজাহান জেলে থাকলেও তাঁর 'ক্যাডার বাহিনী' যে এখনও এলাকায় সক্রিয় এবং আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাতে দ্বিধা করছে না, মুসা মোল্লার এই দুঃসাহস তারই প্রমাণ।
এই প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবারের ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পালান মুসা। রবিবার রাতে পুলিশ প্রথমে মুসার ভাই মোর্তাজা মোল্লা ও তাঁর দুই ছেলেকে গ্রেফতার করে। তাঁদের জেরা করেই পুলিশ জানতে পারে যে সন্দেশখালিরই এক গোপন ডেরায় লুকিয়ে রয়েছেন মুসা। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সোমবার রাতে অপারেশন চালিয়ে তাঁকে পাকড়াও করা হয়।
বসিরহাট জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, "আইন হাতে তুলে নেওয়া কাউকে রেয়াত করা হবে না। এই হামলার সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিল, তা মুসাকে জেরা করে জানার চেষ্টা চলছে।"
হিডেন স্টোরিজ নিউজ/কলকাতা/সুপর্ণা/এসএইচকে

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন