রাজ্য রাজনীতিতে বেনজির 'যুদ্ধ পরিস্থিতি'! এর আগে কখনও যা দেখা যায়নি, এবার সেটাই ঘটল। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নজিরবিহীনভাবে মামলা রুজু করার পথে হাঁটল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের মতো গুরুতর অভিযোগে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ঘটনার সূত্রপাত সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার কলকাতায় আইপ্যাকের অফিস এবং সৃংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি আধিকারিকরা যখন তল্লাশিতে গিয়েছিলেন, তখন তাঁদের সঙ্গে নজিরবিহীন বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী! এমনকী, কেন্দ্রীয় সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি তাঁদের তীব্র আক্রমণও করেন! এরপরই জল গড়ায় বহু দূর। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, সরকারি ক্ষমতায় থেকে তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং আধিকারিকদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগকে ঢাল করেই এবার মমতার বিরুদ্ধে আইনি ঘেরাটোপ তৈরি করছে ইডি।
এদিকে, ইডির এই পদক্ষেপকে ঘিরে রীতিমতো রণংদেহী মেজাজে শাসকদল। তৃণমূলের দাবি, রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে না পেরে এখন এজেন্সিকে দিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে দমানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের উপর বড় আঘাত হিসাবেই দেখছে ঘাসফুল শিবির।
তদন্তকারীদের বক্তব্য, আইন সকলের জন্য সমান। তদন্তে বাধা দিলে বা নিয়ম লঙ্ঘন করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তিনি যে পদেই থাকুন না কেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনও বড় বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে!
এখন দেখার, ইডির এই কড়া পদক্ষেপের পর মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য সরকার পাল্টা কোন আইনি কৌশল অবলম্বন করে। মোটের ওপর, নজিরবিহীন এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখন সরগরম।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন