রাজ্যে ইডি এবং রাজ্য সরকারের সংঘাত এবার আর স্রেফ বাকযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি আইনি লড়াইয়ের ময়দানে নেমে এসেছে। আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশিকে কেন্দ্র করে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের করল কলকাতা পুলিশ। স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই পুলিশের তরফে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশের অভিযোগে কী রয়েছে? কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে শেক্সপিয়র সরণি থানায় এই মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার লাউডন স্ট্রিটে তল্লাশি চালানোর সময় ইডি আধিকারিকরা এমন কিছু কাজ করেছেন যা আইনি এক্তিয়ারের বাইরে। অভিযোগে মূলত তিনটি বিষয় উঠে এসেছে:
তথ্য হাতানো: তল্লাশির নামে ল্যাপটপ বা হার্ড ডিস্ক থেকে তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা।
নিয়ম লঙ্ঘন: তল্লাশি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং নির্দিষ্ট আইনি প্রোটোকল না মানা।
চাপ সৃষ্টি: বাড়ির সদস্যদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালেই প্রতীক জৈনের আবাসন ‘উডবার্ন কোর্ট’-এ হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ইডি আসলে তৃণমল কংগ্রেসের আগামী নির্বাচনের কৌশল চুরি করতে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই অভিযোগের রেশ ধরেই কলকাতা পুলিশ পদক্ষেপ করেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, একটি নির্দিষ্ট তদন্তের নামে রাজনৈতিক রণকৌশল সংক্রান্ত নথি ঘেঁটে দেখা বা তা সরিয়ে ফেলা গুরুতর অপরাধ।
সাধারণত কেন্দ্রীয় এজেন্সি যখন রাজ্যে তল্লাশি চালায়, তখন রাজ্য পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হয়। কিন্তু, এখানে চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো। ইডি যখন হাইকোর্টে গিয়ে অভিযোগ করছে যে তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে, ঠিক তখনই পুলিশ উল্টে ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা রুজু করে দিল!
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য বনাম কেন্দ্রের এই এজেন্সি-লড়াই এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ। এই এফআইআর-এর ফলে ইডি আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় কিনা, অথবা কেন্দ্রীয় সংস্থা এই মামলার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের রক্ষাকবচ চায় কিনা, সেদিকেই এখন নজর সবার।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন