Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মামলায় উল্লিখিত ‘আহত’দের হদিসই নেই! হাসিনা-সহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

সংবাদদাতা, ঢাকা
সংবাদদাতা, ঢাকা
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬
মামলায় উল্লিখিত ‘আহত’দের হদিসই নেই! হাসিনা-সহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

ঢাকা: জুলাই বিপ্লবের সময় পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের উপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি হাই-প্রোফাইল মামলায় নাটকীয় মোড়। তথ্যগত ভুল এবং অভিযোগপত্রে উল্লিখিত ‘আহতদের’ কোনও সন্ধান না পাওয়া যাওয়ায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ ১১৩ জন অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় সিটি কলেজ ও ঢাকা কলেজের পড়ুয়াদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সাহেদ আলি নামক এক ব্যক্তির কথিত ভাই শরিফ বাদি পক্ষ হয়ে শেখ হাসিনা-সহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্তরের ১১৩ জন নেতাকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যার চেষ্টার মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলায় দাবি করা হয়েছিল, হামলায় ৯ জন পড়ুয়া নাকি গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভুঁইয়া অনুসন্ধান চালান। তাঁর তদন্ত প্রতিবেদনে কয়েকটি প্রধান বিষয় উঠে এসেছে। যেমন - মামলার অভিযোগপত্রে যে ৯ জনকে আহত হিসেবে দেখানো হয়েছিল, তাঁদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি! এমনকী, সরকারি গেজেটে প্রকাশিত জুলাই আন্দোলনে আহতদের তালিকাতেও তাঁদের নাম নেই!

জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলিতে খোঁজ নিয়ে বা বাদির কাছ থেকেও কোনও মেডিকেল সার্টিফিকেট বা চিকিৎসার নথিপত্র পাওয়া যায়নি। ওই তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলার বাদি শরিফকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মাঝে মাঝে হোয়াটসঅ্যাপ খোলা থাকলেও তিনি তদন্তে কোনও সহযোগিতা করেননি।

তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ‘তথ্যগত ভুল’ এবং প্রমাণের অভাবে এই মামলাটি আপাতত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই আদালতকে দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা-সহ সকল অভিযুক্তকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যদি নির্দিষ্ট আহত ব্যক্তিদের সন্ধান বা তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে এই মামলায় পুনরায় চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে।

আইনজীবীদের একাংশের মতে, জুলাই আন্দোলনের সময় গণহারে মামলা দায়ের করার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই এমন তথ্যগত ত্রুটি থেকে গিয়েছে। সঠিক তথ্য ও প্রমাণ ছাড়া মামলা করায় মূল বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তাঁরা।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


মামলায় উল্লিখিত ‘আহত’দের হদিসই নেই! হাসিনা-সহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

প্রকাশের তারিখ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
ঢাকা: জুলাই বিপ্লবের সময় পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের উপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি হাই-প্রোফাইল মামলায় নাটকীয় মোড়। তথ্যগত ভুল এবং অভিযোগপত্রে উল্লিখিত ‘আহতদের’ কোনও সন্ধান না পাওয়া যাওয়ায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ ১১৩ জন অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় সিটি কলেজ ও ঢাকা কলেজের পড়ুয়াদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সাহেদ আলি নামক এক ব্যক্তির কথিত ভাই শরিফ বাদি পক্ষ হয়ে শেখ হাসিনা-সহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্তরের ১১৩ জন নেতাকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যার চেষ্টার মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলায় দাবি করা হয়েছিল, হামলায় ৯ জন পড়ুয়া নাকি গুরুতর আহত হয়েছিলেন।মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভুঁইয়া অনুসন্ধান চালান। তাঁর তদন্ত প্রতিবেদনে কয়েকটি প্রধান বিষয় উঠে এসেছে। যেমন - মামলার অভিযোগপত্রে যে ৯ জনকে আহত হিসেবে দেখানো হয়েছিল, তাঁদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি! এমনকী, সরকারি গেজেটে প্রকাশিত জুলাই আন্দোলনে আহতদের তালিকাতেও তাঁদের নাম নেই!জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলিতে খোঁজ নিয়ে বা বাদির কাছ থেকেও কোনও মেডিকেল সার্টিফিকেট বা চিকিৎসার নথিপত্র পাওয়া যায়নি। ওই তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলার বাদি শরিফকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মাঝে মাঝে হোয়াটসঅ্যাপ খোলা থাকলেও তিনি তদন্তে কোনও সহযোগিতা করেননি।তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ‘তথ্যগত ভুল’ এবং প্রমাণের অভাবে এই মামলাটি আপাতত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই আদালতকে দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা-সহ সকল অভিযুক্তকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যদি নির্দিষ্ট আহত ব্যক্তিদের সন্ধান বা তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে এই মামলায় পুনরায় চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে।আইনজীবীদের একাংশের মতে, জুলাই আন্দোলনের সময় গণহারে মামলা দায়ের করার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই এমন তথ্যগত ত্রুটি থেকে গিয়েছে। সঠিক তথ্য ও প্রমাণ ছাড়া মামলা করায় মূল বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তাঁরা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার