Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

পুলিশের ‘দাবাং’ অভিযানে ধৃত ড্রাগ মাফিয়া এনারুল, মাদক কারবারে মিলল হাজার কোটির হদিশ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
পুলিশের ‘দাবাং’ অভিযানে ধৃত ড্রাগ মাফিয়া এনারুল, মাদক কারবারে মিলল হাজার কোটির হদিশ!

মালদহ: গোটা জেলাকে নেশামুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল মালদহ জেলা পুলিশ। উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে কাঁচামাল আনিয়ে দেশজুড়ে ব্রাউন সুগারের কারবার চালানোর ‘মাস্টারমাইন্ড’ এনারুল শেখকে গ্রেফতার করলেন তদন্তকারীরা। কলকাতার এন্টালি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালদহ পুলিশের বিশেষ দল মাদকচক্রের এই পান্ডাকে পাকড়াও করেছে। ধৃতের থেকে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে মাদক কারবারের যে জাল সামনে এসেছে, তাতে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় দুঁদে অফিসারদেরও!

পুলিশের দাবি, গত কয়েক বছরে মাদকপাচার করে ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি মুনাফা করেছে এনারুল! দীর্ঘদিন ধরেই তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ। এনারুলের পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে তার ছায়াসঙ্গী ‘কাকা বাবলু’ ওরফে শওকত শেখকেও। মালদহের পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জেলা থেকে মাদক নির্মূল করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। সাম্প্রতিক অভিযানে ইতিমধ্যেই মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৩০ জনকে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে জানা গিয়েছে, মাদক তৈরির কাঁচামাল আসত মূলত মণিপুর এবং অসম থেকে। এরপর কালিয়াচকের কিছু যুবককে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে সেই কাঁচামাল থেকে ব্রাউন সুগার তৈরি করা হত। এনারুলের এই সাম্রাজ্য বিহার, ঝাড়খণ্ড ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিল। এমনকী, মাদক বিক্রির টাকা রিয়েল এস্টেট ও প্রোমোটিং ব্যবসায় খাটানো হত বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ।

এই মাদকচক্রের সঙ্গে শুধু অপরাধীরাই নয়, সমাজের প্রভাবশালী শ্রেণির একাংশও যুক্ত বলে অনুমান পুলিশের। তদন্তকারীদের তালিকায় রয়েছে বেশ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং চিকিৎসকের নাম। এছাড়া, ধৃতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও মাদক পাচারকারী চক্রের যোগাযোগ রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ধৃত এনারুল শেখকে ইতিমধ্যেই মালদহ জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে। জেরা করে চক্রের বাকি মাথাদের হদিশ পেতে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। কালিয়াচক এলাকায় একের পর এক ‘গ্যাং ওয়ার’ বা গোষ্ঠী সংঘর্ষের নেপথ্যেও এনারুলের হাত ছিল বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।

পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মালদহের যুবসমাজকে এই মরণনেশা থেকে বাঁচাতে আমাদের লড়াই চলবে। কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


পুলিশের ‘দাবাং’ অভিযানে ধৃত ড্রাগ মাফিয়া এনারুল, মাদক কারবারে মিলল হাজার কোটির হদিশ!

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
মালদহ: গোটা জেলাকে নেশামুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল মালদহ জেলা পুলিশ। উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে কাঁচামাল আনিয়ে দেশজুড়ে ব্রাউন সুগারের কারবার চালানোর ‘মাস্টারমাইন্ড’ এনারুল শেখকে গ্রেফতার করলেন তদন্তকারীরা। কলকাতার এন্টালি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালদহ পুলিশের বিশেষ দল মাদকচক্রের এই পান্ডাকে পাকড়াও করেছে। ধৃতের থেকে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে মাদক কারবারের যে জাল সামনে এসেছে, তাতে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় দুঁদে অফিসারদেরও!পুলিশের দাবি, গত কয়েক বছরে মাদকপাচার করে ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি মুনাফা করেছে এনারুল! দীর্ঘদিন ধরেই তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ। এনারুলের পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে তার ছায়াসঙ্গী ‘কাকা বাবলু’ ওরফে শওকত শেখকেও। মালদহের পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জেলা থেকে মাদক নির্মূল করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। সাম্প্রতিক অভিযানে ইতিমধ্যেই মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৩০ জনকে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে পুলিশ।তদন্তে জানা গিয়েছে, মাদক তৈরির কাঁচামাল আসত মূলত মণিপুর এবং অসম থেকে। এরপর কালিয়াচকের কিছু যুবককে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে সেই কাঁচামাল থেকে ব্রাউন সুগার তৈরি করা হত। এনারুলের এই সাম্রাজ্য বিহার, ঝাড়খণ্ড ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিল। এমনকী, মাদক বিক্রির টাকা রিয়েল এস্টেট ও প্রোমোটিং ব্যবসায় খাটানো হত বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ।এই মাদকচক্রের সঙ্গে শুধু অপরাধীরাই নয়, সমাজের প্রভাবশালী শ্রেণির একাংশও যুক্ত বলে অনুমান পুলিশের। তদন্তকারীদের তালিকায় রয়েছে বেশ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং চিকিৎসকের নাম। এছাড়া, ধৃতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও মাদক পাচারকারী চক্রের যোগাযোগ রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ধৃত এনারুল শেখকে ইতিমধ্যেই মালদহ জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে। জেরা করে চক্রের বাকি মাথাদের হদিশ পেতে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। কালিয়াচক এলাকায় একের পর এক ‘গ্যাং ওয়ার’ বা গোষ্ঠী সংঘর্ষের নেপথ্যেও এনারুলের হাত ছিল বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মালদহের যুবসমাজকে এই মরণনেশা থেকে বাঁচাতে আমাদের লড়াই চলবে। কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার