কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটারতালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া নিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি)-র চেয়ারম্যান তথা ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, ভোটারতালিকা নিয়ে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব বাংলার মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। পাশাপাশি, কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, তার জন্য তিনি প্রয়োজনে পথে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
হুমায়ুন কবীর বলেন, "নির্বাচন কমিশন ভোটারতালিকা নির্ভুল করতে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এর বিরোধিতা করেছিলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন তথ্য শেয়ার করা হবে না। অথচ দেখা যাচ্ছে, গত ৪ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত সময়ে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ডিউটির মধ্যেই কমিশনের দেওয়া এই কাজ করছেন। তাহলে মানুষকে মিথ্যে তথ্য দেওয়ার বা বিভ্রান্ত করার প্রয়োজন কী ছিল?"
ভোটারতালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, সেই প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর জানান, মৃত ব্যক্তি বা যাঁরা অন্য জায়গায় চলে গিয়েছেন, তাঁদের নাম তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। ৭ কোটি ৯ লক্ষ নামের একটি খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, "খসড়া তালিকা থেকে অনেককে নোটিশ দিয়ে ডাকা হচ্ছে। এর অর্থ কমিশন সঠিকভাবেই কাজ করছে। যদিও সংখ্যালঘুদের বেশি করে ডাকা হচ্ছে বলে খবর আসছে।" তিনি নিজেও যে সময়মতো এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন, সেই কথাও এদিন উল্লেখ করেন হুমায়ুন।
রাজ্যের নির্বাচন আধিকারিকদের প্রতি জেইউপি চেয়ারম্যানের বার্তা, "আপনারা রাজ্য সরকারের পাতা জালে পা দেবেন না। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশ দিচ্ছে, সেই অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন।" তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার বা তৃণমূলের উস্কানিতে যদি কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম ভোটারতালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়, তবে তিনি চুপ করে বসে থাকবেন না।
তৃণমূলের প্রাক্তন এই নেতা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রকৃত ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে তিনি বড়সড় আন্দোলনে নামবেন। তাঁর কথায়, "যদি দেখা যায় ষড়যন্ত্র করে কারও নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তবে কাকদ্বীপ থেকে উত্তরবঙ্গ—সর্বত্র আমি রাস্তায় বসে প্রতিবাদ জানাব।"
নির্বাচনের মুখে ভোটারতালিকা নিয়ে হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর তৈরি করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে মরিয়া জেইউপি প্রধানের এই 'সতর্কবার্তা' তৃণমূলের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন