Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

আসানসোলে খনি ধসে মর্মান্তিক মৃত্যু ৩ জনের, অবৈধ কয়লা উত্তোলনে ফের বিপর্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
আসানসোলে খনি ধসে মর্মান্তিক মৃত্যু ৩ জনের, অবৈধ কয়লা উত্তোলনে ফের বিপর্যয়

আসানসোল: শিল্পাঞ্চলে কয়লা চুরির মরণখেলায় ফের অকালমৃত্যু। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কুলটি থানা এলাকায় বিসিসিএল-এর একটি কয়লা খনিতে অবৈধভাবে কয়লা তুলতে গিয়ে ধসে চাপা পড়ে মৃত্যু হল তিনজনের। এই ঘটনায় আরও অন্তত দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি, ২০২৬) বিসিসিএল-এর ওই খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ভোরে কুলটি থানার অন্তর্গত বিসিসিএল-এর একটি খনিতে একদল কয়লা চোর অবৈধভাবে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে কয়লা বের করার চেষ্টা করছিল। সেই সময় হঠাৎ উপর থেকে বিশাল চাঙড় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ঘটনাস্থলেই পাথরের স্তূপের নীচে চাপা পড়েন বেশ কয়েকজন। স্থানীয়দের তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হলেও তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত আরও দু’জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়েই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান কুলটির বিজেপি বিধায়ক অজয় পোদ্দার। তিনি উদ্ধারকাজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকে আঙুল তোলেন। বিধায়ক জানান, "এখানে অবৈধ কয়লা উত্তোলন নতুন নয়। আজ ধসে চাপা পড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং দু’জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার দায় খনি কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের উপর বর্তায়।"

যদিও বিসিসিএল-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যে খনিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটি কার্যত পরিত্যক্ত এবং সেখানে খননকার্য বন্ধ ছিল। কিন্তু, সাধারণ মানুষের একাংশ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে কয়লা তুলতে নামেন। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অবৈধভাবে খনিতে প্রবেশের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে এবং ভিতরে আর কেউ আটকে আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

আসানসোল-রানিগঞ্জ কয়লাঞ্চলে অবৈধ খনন এবং তার জেরে ধস নামার ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে বহু শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দা এই মরণফাঁদে পা দিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং কিছু মানুষের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে কয়লা মাফিয়ারা তাঁদের এই বিপজ্জনক কাজে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মঙ্গলবারের এই দুর্ঘটনা সেই অভিযোগকেই ফের একবার জোরালো করে তুলল।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


আসানসোলে খনি ধসে মর্মান্তিক মৃত্যু ৩ জনের, অবৈধ কয়লা উত্তোলনে ফের বিপর্যয়

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
আসানসোল: শিল্পাঞ্চলে কয়লা চুরির মরণখেলায় ফের অকালমৃত্যু। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কুলটি থানা এলাকায় বিসিসিএল-এর একটি কয়লা খনিতে অবৈধভাবে কয়লা তুলতে গিয়ে ধসে চাপা পড়ে মৃত্যু হল তিনজনের। এই ঘটনায় আরও অন্তত দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি, ২০২৬) বিসিসিএল-এর ওই খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ভোরে কুলটি থানার অন্তর্গত বিসিসিএল-এর একটি খনিতে একদল কয়লা চোর অবৈধভাবে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে কয়লা বের করার চেষ্টা করছিল। সেই সময় হঠাৎ উপর থেকে বিশাল চাঙড় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ঘটনাস্থলেই পাথরের স্তূপের নীচে চাপা পড়েন বেশ কয়েকজন। স্থানীয়দের তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হলেও তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত আরও দু’জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ঘটনার খবর পেয়েই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান কুলটির বিজেপি বিধায়ক অজয় পোদ্দার। তিনি উদ্ধারকাজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকে আঙুল তোলেন। বিধায়ক জানান, "এখানে অবৈধ কয়লা উত্তোলন নতুন নয়। আজ ধসে চাপা পড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং দু’জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার দায় খনি কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের উপর বর্তায়।"যদিও বিসিসিএল-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যে খনিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটি কার্যত পরিত্যক্ত এবং সেখানে খননকার্য বন্ধ ছিল। কিন্তু, সাধারণ মানুষের একাংশ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে কয়লা তুলতে নামেন। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অবৈধভাবে খনিতে প্রবেশের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে এবং ভিতরে আর কেউ আটকে আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।আসানসোল-রানিগঞ্জ কয়লাঞ্চলে অবৈধ খনন এবং তার জেরে ধস নামার ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে বহু শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দা এই মরণফাঁদে পা দিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং কিছু মানুষের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে কয়লা মাফিয়ারা তাঁদের এই বিপজ্জনক কাজে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মঙ্গলবারের এই দুর্ঘটনা সেই অভিযোগকেই ফের একবার জোরালো করে তুলল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার