নয়াদিল্লি: ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটের কোপ পড়ল ভারতের বাসমতী চাল রফতানির উপর। পেমেন্ট বা টাকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আপাতত ইরানে চাল পাঠানো বন্ধ রেখেছেন ভারতীয় রফতানিকারীরা। এর ফলে ভারতের বিভিন্ন বন্দরে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার বাসমতী চালের কনসাইনমেন্ট আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইরানি মুদ্রা ‘রিয়াল’-এর মূল্যে রেকর্ড পতন এই সঙ্কটের প্রধান কারণ। মার্কিন ডলারের তুলনায় রিয়ালের দাম হু হু করে কমতে থাকায় ইরানি আমদানিকারীদের পক্ষে বিদেশি মুদ্রায় পেমেন্ট করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরান সরকার খাদ্য আমদানির উপর দীর্ঘদিনের সরকারি ভর্তুকিও প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর ফলে সে দেশে ভারতীয় বাসমতীর দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে চাহিদাতেও।
প্রসঙ্গত, ভারত থেকে প্রতি বছর যে পরিমাণ বাসমতী রফতানি হয়, তার একটি বড় অংশ যায় ইরানে। বছরে ভারত প্রায় ১২ লক্ষ টন বাসমতী ইরানে পাঠায়। যার বাজারমূল্য প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকা। এই রফতানির প্রায় ৪০ শতাংশ জোগান দেয় পঞ্জাব ও হরিয়ানা। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দুই রাজ্যের কৃষক ও রফতানিকারীদের মাথায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
এদিকে, বিদেশের বাজারে চাহিদা কমায় ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে বাসমতী চালের দাম ইতিমধ্যেই কেজি প্রতি ৩-৪ টাকা পড়ে গিয়েছে। ফলে ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন চালকল মালিক ও রফতানিকারীরা।
ইরানের এই সঙ্কটের পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণাও রফতানিকারীদের রক্তচাপ বাড়িয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাবে, তাদের উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপাতে পারে আমেরিকা। এই ‘ডাবল অ্যাটাক’-এর মুখে দাঁড়িয়ে ভারতীয় বাসমতী রফতানিকারীরা এখন রীতিমতো ‘ধীরে চলো’ (Wait and Watch) নীতি নিয়েছেন।
ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশনের মতে, যদি এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে চলতি অর্থবর্ষে ভারতের সামগ্রিক বাসমতী রফতানি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। এর ফলে আগামী দিনে খামারে বা কৃষিমন্ডিতে ধানের দামও কমতে শুরু করবে। যা সরাসরি কৃষকদের স্বার্থে আঘাত হানবে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন