Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

সিঙ্গুরের মাটিতে সুকান্তের হুঙ্কার: মোদীর সভায় যোগ দিতে গ্রাম ঘুরে আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
সিঙ্গুরের মাটিতে সুকান্তের হুঙ্কার: মোদীর সভায় যোগ দিতে গ্রাম ঘুরে আহ্বান

সিঙ্গুর: একদা যে সিঙ্গুরকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছিল, সেই সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়েই এবার তৃণমূল সরকারকে তুলোধোনা করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বুধবার সিঙ্গুরে গিয়ে একদিকে যেমন তিনি কৃষকদের বঞ্চনার অভিযোগে রাজ্যকে বিঁধলেন, অন্যদিকে তেমনই আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানালেন।

এদিন সকালে সিঙ্গুরে পৌঁছেই সুকান্ত মজুমদার সরাসরি চলে যান গ্রামাঞ্চলে। সেখানে চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বর্তমান কৃষিব্যবস্থার হাল হকিকত জানার চেষ্টা করেন। কৃষকদের অভিযোগ শোনার পর তিনি বলেন, “সিঙ্গুরের মানুষ আজ বুঝতে পারছেন তাঁরা কী হারিয়েছেন। যে শিল্প আর কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখিয়ে তাঁদের ব্যবহার করা হয়েছিল, আজ সেখানে কেবল আগাছা জন্মাচ্ছে। তৃণমূলের আমলে চাষিদের কপাল পুড়েছে।”

সিঙ্গুরের মাটি থেকে সুকান্ত মজুমদার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর আক্রমণের মূল বিষয়গুলি ছিল:

কৃষি ও শিল্পে ব্যর্থতা: সুকান্তের দাবি, সিঙ্গুরে না হয়েছে শিল্প, না হয়েছে ঠিকমতো চাষ। সরকার চাষিদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার কোনোটিই পালিত হয়নি।

দুর্নীতি ও কেন্দ্রীয় প্রকল্প: কেন্দ্রীয় বরাদ্দ টাকা রাজ্য সরকার সঠিক পথে খরচ করছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিশেষ করে আবাস যোজনা ও ১০০ দিনের কাজের টাকায় দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন।

আইন-শৃঙ্খলার অবনতি: রাজ্যে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনাগুলো উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন যে প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ।

সুকান্ত মজুমদারের এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল জনসংযোগ। আগামী দিনে রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সভায় সিঙ্গুর তথা হুগলি জেলার সাধারণ মানুষ এবং কৃষকরা যাতে বিপুল সংখ্যায় যোগ দেন, তার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদন জানান তিনি। গ্রামবাসীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা— “দেশের প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের কল্যাণে কী কী কাজ করছেন, তা আপনাদের সরাসরি শুনতে হবে। মোদীজি আপনাদের পাশে আছেন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই জমি শক্ত করতে চাইছে বিজেপি। বিশেষ করে সিঙ্গুরের মতো সংবেদনশীল এলাকাকে বেছে নিয়ে সুকান্ত মজুমদার বুঝিয়ে দিলেন যে, তৃণমূলের ‘আতুঁড়ঘর’ থেকেই তারা পরিবর্তনের লড়াই শুরু করতে চান।

বিজেপি সভাপতির এই সফরকে ঘিরে সিঙ্গুর এলাকায় কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। এখন দেখার, সুকান্তের এই ‘সিঙ্গুর চলো’ ডাক আসন্ন নির্বাচনে ব্যালট বক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


সিঙ্গুরের মাটিতে সুকান্তের হুঙ্কার: মোদীর সভায় যোগ দিতে গ্রাম ঘুরে আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
সিঙ্গুর: একদা যে সিঙ্গুরকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছিল, সেই সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়েই এবার তৃণমূল সরকারকে তুলোধোনা করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বুধবার সিঙ্গুরে গিয়ে একদিকে যেমন তিনি কৃষকদের বঞ্চনার অভিযোগে রাজ্যকে বিঁধলেন, অন্যদিকে তেমনই আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানালেন।এদিন সকালে সিঙ্গুরে পৌঁছেই সুকান্ত মজুমদার সরাসরি চলে যান গ্রামাঞ্চলে। সেখানে চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বর্তমান কৃষিব্যবস্থার হাল হকিকত জানার চেষ্টা করেন। কৃষকদের অভিযোগ শোনার পর তিনি বলেন, “সিঙ্গুরের মানুষ আজ বুঝতে পারছেন তাঁরা কী হারিয়েছেন। যে শিল্প আর কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখিয়ে তাঁদের ব্যবহার করা হয়েছিল, আজ সেখানে কেবল আগাছা জন্মাচ্ছে। তৃণমূলের আমলে চাষিদের কপাল পুড়েছে।”সিঙ্গুরের মাটি থেকে সুকান্ত মজুমদার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর আক্রমণের মূল বিষয়গুলি ছিল:কৃষি ও শিল্পে ব্যর্থতা: সুকান্তের দাবি, সিঙ্গুরে না হয়েছে শিল্প, না হয়েছে ঠিকমতো চাষ। সরকার চাষিদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার কোনোটিই পালিত হয়নি।দুর্নীতি ও কেন্দ্রীয় প্রকল্প: কেন্দ্রীয় বরাদ্দ টাকা রাজ্য সরকার সঠিক পথে খরচ করছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিশেষ করে আবাস যোজনা ও ১০০ দিনের কাজের টাকায় দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন।আইন-শৃঙ্খলার অবনতি: রাজ্যে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনাগুলো উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন যে প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ।সুকান্ত মজুমদারের এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল জনসংযোগ। আগামী দিনে রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সভায় সিঙ্গুর তথা হুগলি জেলার সাধারণ মানুষ এবং কৃষকরা যাতে বিপুল সংখ্যায় যোগ দেন, তার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদন জানান তিনি। গ্রামবাসীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা— “দেশের প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের কল্যাণে কী কী কাজ করছেন, তা আপনাদের সরাসরি শুনতে হবে। মোদীজি আপনাদের পাশে আছেন।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই জমি শক্ত করতে চাইছে বিজেপি। বিশেষ করে সিঙ্গুরের মতো সংবেদনশীল এলাকাকে বেছে নিয়ে সুকান্ত মজুমদার বুঝিয়ে দিলেন যে, তৃণমূলের ‘আতুঁড়ঘর’ থেকেই তারা পরিবর্তনের লড়াই শুরু করতে চান।বিজেপি সভাপতির এই সফরকে ঘিরে সিঙ্গুর এলাকায় কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। এখন দেখার, সুকান্তের এই ‘সিঙ্গুর চলো’ ডাক আসন্ন নির্বাচনে ব্যালট বক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার