Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

তারকা নয় বরং দরদী মেজাজে বিঁধলেন নির্বাচন কমিশনকে, শুনানি কেন্দ্রে হাজির হয়ে কী বললেন দেব?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
তারকা নয় বরং দরদী মেজাজে বিঁধলেন নির্বাচন কমিশনকে, শুনানি কেন্দ্রে হাজির হয়ে কী বললেন দেব?

কলকাতা: রাজনীতির ময়দান হোক বা রুপোলি পর্দা, দেব সবসময়ই সোজাসাপ্টা। বুধবার দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর এলাকায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একটি বিশেষ শুনানিতে হাজিরা দিতে এসে ফের নিজের মানবিক রূপ তুলে ধরলেন অভিনেতা-সাংসদ দেব (দীপক অধিকারী)। তবে শুনানি শেষে বেরিয়ে নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করতে দেখা গেল তাঁকে।

কলকাতা পুরসভার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাটজুনগরে অবস্থিত 'স্বর্ণময়ী বিদ্যালয়'। সেখানেই ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (Special Inquiry Report) সংক্রান্ত শুনানির একটি কেন্দ্র করা হয়েছিল। বুধবার দুপুরে সেই কেন্দ্রে হাজিরা দেন ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেব। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁকে তলব করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

শুনানি সেরে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দেব। এই প্রসঙ্গে দেব বলেন, “এটাই এখন নিউ-নর্মাল। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে যেটা করা দরকার, সেটাই করেছি।” তবে তাঁর বক্তব্যের সুর বদলে যায়, যখন তিনি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তোলেন। দেবের অভিযোগ, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের যেভাবে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে, তাতে তাঁরা অকারণে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন এবং চরম অসুবিধার মুখে পড়ছেন। তাঁর মতে, এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।

এসআইআর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নোটবন্দির সময়কার অভিজ্ঞতার কথাও টানেন দেব। তিনি বলেন, নোটবন্দির সময়েও সকলকে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছিল। সেই সময় দলের অবস্থানের বাইরে গিয়েও তিনি বিষয়টিকে সমর্থন করেছিলেন, কারণ তাঁর মনে হয়েছিল দেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে ওই সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে নোটবন্দির তুলনা টেনে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় এ ভাবে সকলকে লাইনে দাঁড় করানো সমীচীন নয়।

সাংসদের মতে, তরুণ বা জনপ্রতিনিধিরা কেন্দ্রে এসে হাজিরা দিতে পারেন, কিন্তু প্রবীণদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা উচিত ছিল কমিশনের। এই কড়া ঠান্ডায় বয়স্কদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় কোনো অসঙ্গতি বা তথ্যের যাচাইকরণের জন্য অনেক সময় সশরীরে উপস্থিত থেকে শুনানিতে অংশ নিতে হয়। দেবের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। তবে তারকা সাংসদকে হাতের কাছে পেয়ে কুঁদনগর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়।

সাধারণত বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের কাছে নানা অভিযোগ নিয়ে যায়, কিন্তু খোদ শাসক দলের একজন সাংসদ যেভাবে সাধারণ মানুষের হয়ে কমিশনের পরিকাঠামো বা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেন, তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দেবের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


তারকা নয় বরং দরদী মেজাজে বিঁধলেন নির্বাচন কমিশনকে, শুনানি কেন্দ্রে হাজির হয়ে কী বললেন দেব?

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
কলকাতা: রাজনীতির ময়দান হোক বা রুপোলি পর্দা, দেব সবসময়ই সোজাসাপ্টা। বুধবার দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর এলাকায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একটি বিশেষ শুনানিতে হাজিরা দিতে এসে ফের নিজের মানবিক রূপ তুলে ধরলেন অভিনেতা-সাংসদ দেব (দীপক অধিকারী)। তবে শুনানি শেষে বেরিয়ে নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করতে দেখা গেল তাঁকে।কলকাতা পুরসভার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাটজুনগরে অবস্থিত 'স্বর্ণময়ী বিদ্যালয়'। সেখানেই ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (Special Inquiry Report) সংক্রান্ত শুনানির একটি কেন্দ্র করা হয়েছিল। বুধবার দুপুরে সেই কেন্দ্রে হাজিরা দেন ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেব। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁকে তলব করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।শুনানি সেরে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দেব। এই প্রসঙ্গে দেব বলেন, “এটাই এখন নিউ-নর্মাল। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে যেটা করা দরকার, সেটাই করেছি।” তবে তাঁর বক্তব্যের সুর বদলে যায়, যখন তিনি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তোলেন। দেবের অভিযোগ, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের যেভাবে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে, তাতে তাঁরা অকারণে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন এবং চরম অসুবিধার মুখে পড়ছেন। তাঁর মতে, এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।এসআইআর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নোটবন্দির সময়কার অভিজ্ঞতার কথাও টানেন দেব। তিনি বলেন, নোটবন্দির সময়েও সকলকে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছিল। সেই সময় দলের অবস্থানের বাইরে গিয়েও তিনি বিষয়টিকে সমর্থন করেছিলেন, কারণ তাঁর মনে হয়েছিল দেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে ওই সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে নোটবন্দির তুলনা টেনে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় এ ভাবে সকলকে লাইনে দাঁড় করানো সমীচীন নয়।সাংসদের মতে, তরুণ বা জনপ্রতিনিধিরা কেন্দ্রে এসে হাজিরা দিতে পারেন, কিন্তু প্রবীণদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা উচিত ছিল কমিশনের। এই কড়া ঠান্ডায় বয়স্কদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় কোনো অসঙ্গতি বা তথ্যের যাচাইকরণের জন্য অনেক সময় সশরীরে উপস্থিত থেকে শুনানিতে অংশ নিতে হয়। দেবের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। তবে তারকা সাংসদকে হাতের কাছে পেয়ে কুঁদনগর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়।সাধারণত বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের কাছে নানা অভিযোগ নিয়ে যায়, কিন্তু খোদ শাসক দলের একজন সাংসদ যেভাবে সাধারণ মানুষের হয়ে কমিশনের পরিকাঠামো বা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেন, তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দেবের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার