বহরমপুর: ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলায় অস্ত্র ঢোকানোর বড়সড় ছক বানচাল করল মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। বহরমপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩০০ রাউন্ড কার্তুজ, অত্যাধুনিক পিস্তল ও জাল নোটসহ গ্রেফতার করা হয়েছে তিন অস্ত্র কারবারিকে। ধৃতদের আজই আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ড থেকে সীমান্ত সংলগ্ন ডোমকলের দিকে অস্ত্রের কারবার হচ্ছে। এই খবরের ভিত্তিতেই বহরমপুর টাউন এলাকায় কড়া নজরদারি শুরু করে পুলিশ। বহরমপুর শহরে একটি সন্দেহভাজন বাইক আটকে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় পুলিশ আধিকারিকদের। ওই বাইক আরোহীদের কাছ থেকে ৭.৬৫ এমএম-এর ৩০০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, একটি উন্নতমানের ৭ এমএম পিস্তল এবং দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়।
এর কিছুক্ষণ পরই একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে আরও এক যুবককে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় আরও একটি ৭ এমএম পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ১০ হাজার টাকার জাল নোট।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত তিন ব্যক্তির নাম কৌসর আলি, সাকিরুল শেখ এবং রফিকুল মণ্ডল। এদের মধ্যে একজন মুর্শিদাবাদের ইসলামপুর থানা এলাকার বাসিন্দা এবং বাকি দুজন সাগরপাড়া থানা এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ড থেকে এই বিপুল পরিমাণ গোলা-বারুদ এনে তারা সীমান্ত এলাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।
ধৃতদের আজই বহরমপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে। এদের কারসাজি ও নেপথ্যের মূল চক্রীদের হদিশ পেতে পুলিশ ১০ দিনের হেফাজত চেয়ে আবেদন করেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে। এই বিপুল পরিমাণ কার্তুজ ও আগ্নেয়াস্ত্র কোনো বড় ধরনের নাশকতামূলক কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে কড়া নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, "অস্ত্র পাচার রুখতে আমাদের অভিযান লাগাতার চলবে। ধৃতদের জেরা করে এই কারবারের বাকি পান্ডাদের দ্রুত পাকড়াও করা সম্ভব হবে।"

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন