Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ঢাকায় ফের অচলাবস্থা, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিন সড়ক অবরোধ

সংবাদদাতা, ঢাকা
সংবাদদাতা, ঢাকা
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকায় ফের অচলাবস্থা, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিন সড়ক অবরোধ

ঢাকা: ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের অধ্যাদেশ অবিলম্বে জারির এক দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও টেকনিক্যাল মোড়সহ একাধিক এলাকায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দুপুর পৌনে ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করেন। কিছুক্ষণ পর দুপুর ১টার দিকে টেকনিক্যাল মোড়ও অবরোধ করা হয়।

সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। টেকনিক্যাল মোড়ে বিক্ষোভ করছেন সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এদিন তাঁতীবাজার মোড় অবরোধের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা ভিক্টোরিয়া পার্কে জড়ো হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “আমরা চূড়ান্ত অধ্যাদেশ চাই। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানুয়ারি মাসেই অধ্যাদেশ জারি হবে বলেছিল, কিন্তু সেটি হয়নি। এখন আর আশ্বাস নয়—অধ্যাদেশ চাই।”

মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী মো. জুয়েল রানা বলেন, “অনেক টালবাহানা করা হয়েছে আমাদের নিয়ে। আমরা দ্রুত অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আমাদের একাডেমিক পরিচয় চাই।”

এর আগে বুধবারও সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাবরেটরি, টেকনিক্যাল মোড়, মহাখালী আমতলীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের একাংশ। তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানুয়ারির প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারির কথা বলেছিল বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের একটি খসড়া প্রকাশ করা হয়। এতে সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে ভাগ করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ বা ‘স্কুলিং’ কাঠামোয় বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়। খসড়ায় কলেজগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদান অব্যাহত রাখার কথাও বলা হয়েছে।

এই খসড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক মহলেও বিভক্তি তৈরি হয়। একাংশ শিক্ষক মনে করছেন, প্রস্তাবিত কাঠামো চূড়ান্ত হলে তাদের পদোন্নতিসহ মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছে, স্কুলিং কাঠামোতে কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় খসড়াটি পরিমার্জন করে মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

তবে শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট বার্তা—পরিমার্জন নয়, দ্রুত অধ্যাদেশ জারি না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ঢাকায় ফের অচলাবস্থা, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিন সড়ক অবরোধ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
ঢাকা: ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের অধ্যাদেশ অবিলম্বে জারির এক দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও টেকনিক্যাল মোড়সহ একাধিক এলাকায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দুপুর পৌনে ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করেন। কিছুক্ষণ পর দুপুর ১টার দিকে টেকনিক্যাল মোড়ও অবরোধ করা হয়।সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। টেকনিক্যাল মোড়ে বিক্ষোভ করছেন সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।এদিন তাঁতীবাজার মোড় অবরোধের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা ভিক্টোরিয়া পার্কে জড়ো হয়েছেন বলে জানা গেছে।ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “আমরা চূড়ান্ত অধ্যাদেশ চাই। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানুয়ারি মাসেই অধ্যাদেশ জারি হবে বলেছিল, কিন্তু সেটি হয়নি। এখন আর আশ্বাস নয়—অধ্যাদেশ চাই।”মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী মো. জুয়েল রানা বলেন, “অনেক টালবাহানা করা হয়েছে আমাদের নিয়ে। আমরা দ্রুত অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আমাদের একাডেমিক পরিচয় চাই।”এর আগে বুধবারও সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাবরেটরি, টেকনিক্যাল মোড়, মহাখালী আমতলীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের একাংশ। তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানুয়ারির প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারির কথা বলেছিল বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের একটি খসড়া প্রকাশ করা হয়। এতে সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে ভাগ করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ বা ‘স্কুলিং’ কাঠামোয় বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়। খসড়ায় কলেজগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদান অব্যাহত রাখার কথাও বলা হয়েছে।এই খসড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক মহলেও বিভক্তি তৈরি হয়। একাংশ শিক্ষক মনে করছেন, প্রস্তাবিত কাঠামো চূড়ান্ত হলে তাদের পদোন্নতিসহ মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছে, স্কুলিং কাঠামোতে কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় খসড়াটি পরিমার্জন করে মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।তবে শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট বার্তা—পরিমার্জন নয়, দ্রুত অধ্যাদেশ জারি না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার