কলকাতা: মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড মানেই তা বয়সের প্রমাণপত্র — এই ধারণা দীর্ঘদিনের। কিন্তু, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারতালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় সেই প্রথাগত নিয়মে বড় বদল আনল নির্বাচন কমিশন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, এখন থেকে এসআইআর শুনানিতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড আর বৈধ নথিপত্র হিসেবে গ্রহণ করা হবে না।
কেন এই সিদ্ধান্ত? কমিশন সূত্রে খবর, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে থাকা বয়সের সঙ্গে আধার কার্ড বা প্যান কার্ডের তথ্যে গরমিল থাকছে। ভোটারতালিকায় নাম তোলা বা তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভুয়ো নথি রুখতেই এই কড়া পদক্ষেপ।
বিকল্প হিসেবে কী কী বৈধ? নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বয়সের প্রমাণপত্র বা আইনি নথি হিসাবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের বদলে নিম্নলিখিত নথিগুলি প্রাধান্য পাবে:
জন্ম শংসাপত্র: এটিকেই সবথেকে নির্ভরযোগ্য নথি হিসাবে ধরা হচ্ছে।
আধার কার্ড: বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ ও বয়সের জন্য আধার কার্ড বাধ্যতামূলক।
প্যান কার্ড: বয়সের প্রমাণের জন্য এটিও গ্রাহ্য হবে।
পাসপোর্ট: বৈধ পাসপোর্টকেও তালিকায় রাখা হয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বর্তমানে এসআইআর শুনানি চলছে। অনেক আবেদনকারীই এতদিন বয়সের প্রমাণ হিসাবে স্কুলের শংসাপত্র বা অ্যাডমিট কার্ড পেশ করতেন। কমিশনের এই নতুন নির্দেশের ফলে আবেদনকারীদের কিছুটা বিপাকে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিডিও অফিসগুলিতে যে শুনানি চলছে, সেখানে কর্মরত আধিকারিকদের ইতিমধ্যেই এই নতুন নিয়ম সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, ভোটারতালিকা ত্রুটিমুক্ত তথ্য সুনিশ্চিত করতেই ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে এখন আধার বা বার্থ সার্টিফিকেটের মতো বায়োমেট্রিক নির্ভর নথির উপর বেশি জোর দিচ্ছে কমিশন। এর ফলে ভবিষ্যতে তথ্যবিভ্রাট অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন