সাগর: প্রতি বছরের মতো এবারও পৌষ সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছে গঙ্গাসাগর মেলায়। তবে, ভিড় আর ভক্তির চেনা ছবির মাঝেও ২০২৬-এর গঙ্গাসাগর মেলায় রচিত হল এক সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায়। চিরাচরিত প্রথার সঙ্গে আধুনিক ব্যবস্থাপনা আর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মেলবন্ধন এবারের মেলাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।
এবারের মেলার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল, পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ নজরদারি। প্লাস্টিক বর্জন থেকে শুরু করে জঞ্জাল পরিষ্কার— সব ক্ষেত্রেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সমুদ্র সৈকত দূষণমুক্ত রাখতে প্রশাসন যে কড়া পদক্ষেপ করেছে, তা পুণ্যার্থীদের কাছেও ছিল চোখে পড়ার মতো। মুড়িগঙ্গা নদী পেরিয়ে আসা কচুবেড়িয়া থেকে শুরু করে ৫ নম্বর বিচে নজরদারিতে এবার ড্রোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়াও, ভিড় সামাল দিতে এবং পদপিষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা এড়াতে এবার বাফার জোনগুলিতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেলায় আসা প্রবীণ নাগরিকদের জন্য আলাদা করে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং হারানো-প্রাপ্তি বিভাগে অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেম কাজে লাগানো হচ্ছে। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণে ১০০ শয্যার অস্থায়ী হাসপাতাল এবং স্পেশালিটি ক্যাম্প বসানো হয়েছে। যাঁরা সশরীরে মেলায় পৌঁছতে পারেননি, তাঁদের জন্য বাড়িতে গঙ্গা জল পৌঁছে দেওয়ার ‘ই-স্নান’ পরিষেবা এবার আরও জনপ্রিয় হয়েছে।
এরই পাশাপাশি, প্রথাগত নিয়ম ছাপিয়ে এবারের মেলায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে সামাজিক সম্প্রীতি এবং লিঙ্গসাম্যের উপর। বহু জায়গায় মহিলা স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় উপস্থিতি এবং ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের জন্য নির্দিষ্ট ক্যাম্প মেলার চেনা ইতিহাসে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে। পর্যটকদের জন্য সাগরের সৈকতে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং লোকশিল্পের প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলার হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিও তুলে ধরা হয়েছে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন