দুর্গাপুর- ডিভিসি-র (DVC) উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দুর্গাপুরের অর্জুনপুর এলাকা। অভিযোগ, নতুন ইউনিট এবং হাসপাতাল তৈরির দোহাই দিয়ে দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ। এমনকি ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে দেওয়া হয় এক ক্যানসার আক্রান্ত রোগীকেও। ডিভিসি (DVC) এলাকায় ঘর ভাঙার নামে ঢুকে নগদ টাকা ও সোনা লুটের এই ভয়াবহ ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এলাকার কয়েকজন তৃণমূল নেতাদের মদত রয়েছে এই ভাঙচুরের পিছনে।
ঘটনার সূত্রপাত রূপা বাউরির বাড়িতে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা মলয় মণ্ডল, রাজু বুট এবং অমিত মোদীর নেতৃত্বে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি বিশাল দল তাঁদের এলাকায় হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে অনেকেই ডিভিসি-র কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছেন রূপা দেবী। প্রথমদিকে তাঁরা ঘর ভাঙার কথা বললেও, শেষ পর্যন্ত বলপূর্বক বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়েন বলে অভিযোগ।
অভিযোগের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও বেদনাদায়ক দিকটি হলো বাড়ির অসুস্থ সদস্যকে নিয়ে। রূপা বাউরি জানিয়েছেন, ঘরের ভেতরে এক ক্যানসার আক্রান্ত রোগী ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা না করেই হামলাকারীরা তাঁকে টেনে হিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং বাইরে একটি গাছের নিচে ফেলে রাখে। এখানেই শেষ নয়, ওই রোগীর অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী ওষুধ এবং চিকিৎসার জরুরি নথিপত্রও হয় লুট করে নেওয়া হয়েছে অথবা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই সরব হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর অরবিন্দ নন্দী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছেন, "উচ্ছেদের নামে চরম অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। একজন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীকে ঘরছাড়া করার প্রতিবাদে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিটি ডিভিসি-র নিজস্ব সম্পত্তি এবং সেখানে বেআইনিভাবে জবরদখল করা হয়েছিল। উচ্ছেদের আগে বাসিন্দাদের একাধিকবার আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নতুন ইউনিট এবং হাসপাতাল নির্মাণের মতো জনহিতকর প্রকল্পের স্বার্থেই এই জমি পুনরুদ্ধার করা জরুরি ছিল।
উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে বাসিন্দাদের প্রতিরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে এলাকায় উত্তেজনার পারদ চড়েছে। বাসিন্দাদের ঘরছাড়া করার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে ভেবে পুলিশ টহল দিচ্ছে। ঘর হারানো বাসিন্দারা আপাতত খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটাচ্ছেন। দলের কর্মীদের মধ্যেই এই অন্তঃকলহ এবং ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর ওপর অমানবিক অত্যাচারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই অস্বস্তিতে শাসক শিবির। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কিনা তা নিয়ে এলাকায় চাপানউতোর চলছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন