নয়াদিল্লি ও তেহরান: মাঝসমুদ্রে এক রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তা, আর তারপরই বন্দি দশা! ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) হাতে আটক হলেন ১৬ জন ভারতীয় নাবিক। তাঁদের উপর গুলি চালানোর পাশাপাশি বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আপাতত বন্দর আব্বাস কারাগারে দিন কাটছে তাঁদের। ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ওই নাবিকদের পরিবার।
ঘটনার সূত্রপাত গত ডিসেম্বর মাসে। দুবাইয়ের সংস্থা ‘গ্লোরি ইন্টারন্যাশনাল’-এর তেলবাহী জাহাজ এমটি ভ্যালিয়ান্ট রোর সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর জলসীমা দিয়ে যাওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে। সাহায্য পাওয়ার জন্য জাহাজটি যখন এগিয়ে আসছিল, তখনই আন্তর্জাতিক জলসীমায় সেটিকে তাড়া করে ইরানের নৌসেনা।
জাহাজটিকে লক্ষ করে অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে ইরান সেনা। গুলির আঘাতে জাহাজের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন নাবিক জখম হন। এরপর ইরানি সেনা জাহাজে উঠে নাবিকদের ফোন ও ল্যাপটপ কেড়ে নিয়ে তাঁদের একটি ছোট ঘরে বন্দি করে রাখে।
পরবর্তীতে গত ৬ জানুয়ারি ১০ জন নাবিককে বয়ান রেকর্ড করার নাম করে জাহাজ থেকে নামিয়ে সরাসরি বন্দর আব্বাস কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি ৬ জন এখনও জাহাজে বন্দি। অভিযোগ, তাঁদের পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে না এবং কার্যত অর্ধাহারে দিন কাটছে তাঁদের। ইরান প্রশাসনের দাবি, ওই জাহাজটি বিপুল পরিমাণ ডিজেল পাচার করছিল। যদিও নাবিকদের পরিবার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
ইতিমধ্যেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এবং তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে। অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইরানে থাকা ভারতীয়দের দ্রুত সেই দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন