Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মমতাকে তীব্র আক্রমণ: মুর্শিদাবাদ ও বেলডাঙা ইস্যুতে বিস্ফোরক হুমায়ূন কবীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
মমতাকে তীব্র আক্রমণ: মুর্শিদাবাদ ও বেলডাঙা ইস্যুতে বিস্ফোরক হুমায়ূন কবীর

মুর্শিদাবাদ: তৃণমূল কংগ্রেস দল থেকে বহিষ্কারের পর এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মুর্শিদাবাদের দাপুটে নেতা হুমায়ূন কবীর। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, গত ২২ ডিসেম্বর তিনি নিজের নতুন দল ‘জনতা ইউনিয়ন পার্টি’ গঠন করেছেন এবং এখন থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও বাংলাকে বাঁচানোর লড়াই শুরু করছেন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে বেনজির আক্রমণ করে হুমায়ূন কবীর বলেন, "২০১২ সালের ২০ নভেম্বর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্বাস করা ছিল আমার জীবনের ঐতিহাসিক ভুল। তিনি একজন মিথ্যাচারী মহিলা। তাঁর আমলে বাংলা দুর্নীতিতে ডুবে গেছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার মেলা, খেলা আর প্রলোভন দেখিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে অবজ্ঞা করছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায় বা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকদের মতো জেলবন্দি নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী অনেককে সহায়তা দিয়ে জেলের বাইরে রেখেছেন।

বেলডাঙার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হুমায়ূন কবীর নিজেকেই ত্রাতা হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, "বেলডাঙার ঘটনায় এসপি (SP) এবং আইসি (IC) আমাকে ফোন করে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। পুলিশ সেখানে অসহায়। আমার কথাতেই পরিবারের লোক বডি সরাতে রাজি হয়েছে, যা প্রশাসন করতে পারেনি।" এই ঘটনায় অধীর চৌধুরীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "অধীর চৌধুরী ওখানে ঘোলা জলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন, কিন্তু কিছুই পাননি।"

বিজেপির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, "বিজেপি রাজ্যে দাঙ্গা লাগিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির চেষ্টা করছে। শিয়ালদহগামী ট্রেনে মুসলিমদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে, তাঁদের জয় শ্রীরাম বলতে বাধ্য করা হয়েছে।" তবে ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া বা রেল অবরোধের পদ্ধতিকে তিনি সমর্থন করেননি। তাঁর দাবি, যারা আইন হাতে তুলে নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


ধর্মীয় নির্মাণ ও সরকারি তহবিল সরকারি টাকায় ধর্মীয় স্থান নির্মাণ নিয়ে তাঁর অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "সরকারি কোষাগারের টাকায় মন্দির, মসজিদ বা চার্চ—কোনোটিই হওয়া উচিত নয়। মসজিদ মুসলিমরা নিজেদের টাকাতেই বানায়।"


আগামী ১লা ফেব্রুয়ারির মেগা শো নিজের শক্তি প্রদর্শনের জন্য আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি বড় সভার ডাক দিয়েছেন তিনি। হুমায়ূন জানান, মুর্শিদাবাদ বা ব্রিগেডে এই সভা হতে পারে। এর জন্য ইতিমধ্যেই ৫০ বিঘা জমির এনওসি (NOC) তাঁর হাতে চলে এসেছে। নিজের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, "আমি মুর্শিদাবাদে থাকলে আধ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতাম। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে গদ্দার বা পোকা-মাকড় যা খুশি বলতে পারেন, ক্ষমতা থাকলে আমার বিরুদ্ধে এফআইআর করে দেখান।"

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


মমতাকে তীব্র আক্রমণ: মুর্শিদাবাদ ও বেলডাঙা ইস্যুতে বিস্ফোরক হুমায়ূন কবীর

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
মুর্শিদাবাদ: তৃণমূল কংগ্রেস দল থেকে বহিষ্কারের পর এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মুর্শিদাবাদের দাপুটে নেতা হুমায়ূন কবীর। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, গত ২২ ডিসেম্বর তিনি নিজের নতুন দল ‘জনতা ইউনিয়ন পার্টি’ গঠন করেছেন এবং এখন থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও বাংলাকে বাঁচানোর লড়াই শুরু করছেন।এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে বেনজির আক্রমণ করে হুমায়ূন কবীর বলেন, "২০১২ সালের ২০ নভেম্বর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্বাস করা ছিল আমার জীবনের ঐতিহাসিক ভুল। তিনি একজন মিথ্যাচারী মহিলা। তাঁর আমলে বাংলা দুর্নীতিতে ডুবে গেছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার মেলা, খেলা আর প্রলোভন দেখিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে অবজ্ঞা করছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায় বা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকদের মতো জেলবন্দি নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী অনেককে সহায়তা দিয়ে জেলের বাইরে রেখেছেন।বেলডাঙার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হুমায়ূন কবীর নিজেকেই ত্রাতা হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, "বেলডাঙার ঘটনায় এসপি (SP) এবং আইসি (IC) আমাকে ফোন করে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। পুলিশ সেখানে অসহায়। আমার কথাতেই পরিবারের লোক বডি সরাতে রাজি হয়েছে, যা প্রশাসন করতে পারেনি।" এই ঘটনায় অধীর চৌধুরীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "অধীর চৌধুরী ওখানে ঘোলা জলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন, কিন্তু কিছুই পাননি।"বিজেপির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, "বিজেপি রাজ্যে দাঙ্গা লাগিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির চেষ্টা করছে। শিয়ালদহগামী ট্রেনে মুসলিমদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে, তাঁদের জয় শ্রীরাম বলতে বাধ্য করা হয়েছে।" তবে ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া বা রেল অবরোধের পদ্ধতিকে তিনি সমর্থন করেননি। তাঁর দাবি, যারা আইন হাতে তুলে নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।ধর্মীয় নির্মাণ ও সরকারি তহবিল সরকারি টাকায় ধর্মীয় স্থান নির্মাণ নিয়ে তাঁর অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "সরকারি কোষাগারের টাকায় মন্দির, মসজিদ বা চার্চ—কোনোটিই হওয়া উচিত নয়। মসজিদ মুসলিমরা নিজেদের টাকাতেই বানায়।"আগামী ১লা ফেব্রুয়ারির মেগা শো নিজের শক্তি প্রদর্শনের জন্য আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি বড় সভার ডাক দিয়েছেন তিনি। হুমায়ূন জানান, মুর্শিদাবাদ বা ব্রিগেডে এই সভা হতে পারে। এর জন্য ইতিমধ্যেই ৫০ বিঘা জমির এনওসি (NOC) তাঁর হাতে চলে এসেছে। নিজের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, "আমি মুর্শিদাবাদে থাকলে আধ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতাম। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে গদ্দার বা পোকা-মাকড় যা খুশি বলতে পারেন, ক্ষমতা থাকলে আমার বিরুদ্ধে এফআইআর করে দেখান।"

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার