কলকাতা হাইকোর্ট দলত্যাগ বিরোধী আইনে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে। অর্থাৎ, শীর্ষ আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত মুকুল রায় কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক হিসেবেই থাকছেন। মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের আবেদনের ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে বিধানসভার স্পিকার ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে হলফনামা দিতে বলেছে আদালত।
মুকুল রায় দীর্ঘ সময় রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। প্রশ্ন উঠতে পারে, সাংসদ হিসেবে আজীবন সুবিধা পাওয়ার পরেও কেন তিনি বিধায়ক পদের জন্য লড়ছেন?
মুকুল রায় দীর্ঘ কয়েক বছর দেশের উচ্চকক্ষ অর্থাৎ রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে তিনি আজীবন সরকারি পেনশন পাওয়ার অধিকারী। এর পাশাপাশি, তিনি এবং তাঁর একজন সঙ্গী সারা ভারতের যে কোনো জায়গায় ট্রেনের প্রথম শ্রেণির এসি কামরায় বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারেন। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের 'সিজিএইচএস' (CGHS) কার্ডের মাধ্যমে তিনি দেশের সেরা হাসপাতালগুলোতে উন্নত মানের আজীবন চিকিৎসা সুবিধাও পান।
অন্যদিকে, বর্তমানে তিনি কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের নির্বাচিত বিধায়ক। একজন বিধায়ক হিসেবে তিনি রাজ্য সরকার থেকে মাসিক বেতন ও নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের জন্য বিশেষ ভাতা পান। যদিও সাংসদ হিসেবে তিনি পেনশন ও যাতায়াতের স্থায়ী সুবিধা পান, কিন্তু বিধায়ক হিসেবে তিনি কলকাতার এমএলএ হোস্টেলে থাকার জায়গা এবং রাজ্যের মধ্যে যাতায়াতের কুপন পান।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে এত বড় সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি বিধায়ক পদের জন্য আইনি লড়াই চালাচ্ছেন? আসলে, এটি কেবল আর্থিক বা ব্যক্তিগত সুবিধার লড়াই নয়; এটি রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। প্রথমত, রাজনৈতিক মর্যাদা: মুকুল রায় বিজেপির টিকিটে জিতে পরে তৃণমূলে যোগ দেন। যদি দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর পদ যায়, তবে আইনিভাবে প্রমাণিত হবে যে তিনি 'দলত্যাগী'। এই তকমা থেকে বাঁচতেই তাঁর পরিবার সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করছে। দ্বিতীয়ত বিধায়ক থাকাকালীন তাঁকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল।
তৃতীয়ত, কৃষ্ণনগর উত্তরের মানুষ তাঁকে ভোট দিয়েছেন। পদ হারানো মানে সেই এলাকার মানুষের ম্যান্ডেট হারিয়ে যাওয়া এবং সেখানে উপ-নির্বাচন হওয়া। চতুর্থত, মুকুল রায় বর্তমানে অসুস্থ থাকলেও, তাঁর বিধায়ক পদ থাকাটা তৃণমূলের জন্য রাজনৈতিক কৌশলের অংশ।
মুকুল রায় এখন সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও, তাঁর বিধায়ক পদটি একটি বড় আইনি ঢাল। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে তিনি অন্তত আপাতত ‘বিধায়ক’ পরিচয়টি ধরে রাখতে পারলেন।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন