নতুন বছরে বাংলার জন্য বড় উপহার দিচ্ছে ভারতীয় রেল। আগামী রবিবার (১৮ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৯টি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করবেন, যার মধ্যে ৭টিই চলবে বাংলার বুক চিরে। উদ্বোধনের দিন ট্রেনটি সাঁতরাগাছি থেকে হাওড়া হয়ে আনন্দ বিহারের পথে রওনা দেবে। এরপর থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার হাওড়া এবং শিয়ালদহ থেকে নিয়মতি এই ট্রেন ছাড়বে।
কেন এই ট্রেন আলাদা?
১. পুশ-পুল প্রযুক্তি: ট্রেনের সামনে ও পিছনে দুটি শক্তিশালী WAP-5 ইঞ্জিন থাকবে। এর ফলে ট্রেন দ্রুত গতি তুলতে পারবে এবং স্টেশনে ইঞ্জিন ঘোরানোর ঝামেলা থাকবে না, যা যাত্রার সময় অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
২. ঝাঁকুনিহীন যাত্রা: এই ট্রেনে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ 'সেমি পার্মানেন্ট কাপলার' এবং সিল করা গ্যাংওয়ে। ফলে ১৩০ কিমি গতিতে চললেও ট্রেনের ভেতরে শব্দ হবে না এবং যাত্রীরা কোনো বড় ঝাঁকুনি অনুভব করবেন না।
৩. নন-এসি যাত্রীদের জন্য বিলাসিতা: বন্দে ভারত মূলত এসি ট্রেন হলেও অমৃত ভারত সাধারণ মানুষের কথা ভেবে তৈরি। এতে ১২টি স্লিপার এবং ৮টি জেনারেল কোচ থাকবে। প্রতিটি সিট ও বার্থ হবে গদিযুক্ত ও আরামদায়ক।
৪. অত্যাধুনিক সুরক্ষা: যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি কোচে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। এছাড়া দুর্ঘটনা এড়াতে ইঞ্জিনে থাকছে দেশীয় প্রযুক্তি ‘কবচ’। এমনকি বিশেষভাবে সক্ষমদের (দিব্যাঙ্গ) জন্য র্যাম্পের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
৫. স্মার্ট ইন্টেরিয়র: ট্রেনের ভেতরে থাকছে মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট, ফোল্ডেবল স্ন্যাক টেবিল, বোতল হোল্ডার এবং ঘোষণা করার জন্য উন্নত পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম। ট্রেনের মেঝেতে থাকবে অন্ধকারেও উজ্জ্বল রেডিয়াম স্ট্রিপ।
কোচিং ডিপো অফিসার পৃথ্বীশ হালদার জানিয়েছেন, মোট ১৮৩৪ জন যাত্রী এই ট্রেনে সফর করতে পারবেন। ট্রেনের লোকো পাইলট বা চালকদের কেবিনগুলোও করা হয়েছে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আরামদায়ক। ফলে দীর্ঘ পথ চললেও চালকদের ক্লান্তি কম হবে, যা পরোক্ষভাবে যাত্রীদের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন