বৃহন্মমুম্বই মিউনিসিপাল কর্পোরেশন (বিএমসি) এবং মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটা সময় 'ঠাকরে' পদবীটিই ছিল শেষ কথা। কিন্তু, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে, উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি) তার পুরনো আধিপত্য হারাচ্ছে। এর পিছনে প্রধান কিছু কারণকে নির্দিষ্ট করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। যেমন -
আদর্শগত দোটানা ও নরম হিন্দুত্ব: কট্টর হিন্দুত্বের পথ ছেড়ে কংগ্রেস ও এনসিপি-র সঙ্গে হাত মেলানোয় উদ্ধব ঠাকরের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, তাঁর এই 'সফট হিন্দুত্ব' নীতি কট্টরপন্থী মারাঠি ভোটারদের বিভ্রান্ত করেছে। যার সুবিধা নিয়েছে একনাথ শিন্ডের গোষ্ঠী।
শিন্ডে শিবিরের উত্থান: একনাথ শিন্ডে নিজেকে বালাসাহেব ঠাকরের 'আসল উত্তরাধিকারী' হিসাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বোঝাতে পেরেছেন যে উদ্ধব ক্ষমতার লোভে আদর্শ বিসর্জন দিয়েছেন। যা সাধারণ শিব সৈনিকদের মনে প্রভাব ফেলেছে।
বিএমসি-তে নিয়ন্ত্রণের অভাব: দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিএমসি ছিল শিবসেনার শক্তির উৎস। বর্তমানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া এবং আইনি লড়াইয়ের ফলে বিএমসি-র উপর তাদের যে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল, তাতে বড়সড় ধস নেমেছে।
সংগঠনের ভাঙন: তৃণমূলস্তরের বহু নেতা ও কর্মী শিন্ডে শিবিরে যোগ দেওয়ায় উদ্ধবের সাংগঠনিক শক্তি আগের চেয়ে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মুম্বইয়ের মতো জায়গায়, যেখানে 'শাখা' নেটওয়ার্কই ছিল মূল শক্তি, সেখানে এখন ফাটল স্পষ্ট।
সবশেষে বলা যায়, আদর্শের লড়াই বনাম ক্ষমতার রাজনীতির এই দ্বন্দ্বে 'ব্র্যান্ড ঠাকরে' এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। ভোটাররা কি উদ্ধবের এই নতুন রূপ গ্রহণ করবেন, নাকি কট্টর হিন্দুত্বের পথে চলা শিন্ডে শিবিরকেই আসল শিবসেনা মনে করবেন — সেটাই এখন দেখার বিষয়।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন