Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

জঙ্গলরাজ খতম হবেই: নিউটাউনে হুঙ্কার দিলীপের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
 জঙ্গলরাজ খতম হবেই: নিউটাউনে হুঙ্কার দিলীপের

কলকাতা: সোমবার সকালে নিউটাউনের ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে ফের চেনা মেজাজে ধরা দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রবিবার নদীয়ার সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগ এবং সিঙ্গুরের সভায় প্রধানমন্ত্রীর করা মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সোমবার রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেন তিনি।

রবিবার নদীয়ার সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করে বাংলার টাকা আটকে রাখছেন। এর জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, "টাকা কি কারও পৈতৃক সম্পত্তি? কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ মানুষের টাকা পাঠায় উন্নয়নের জন্য। কিন্তু গত কয়েক বছরে বাংলায় সেই টাকার হিসেব নেই। কেন্দ্রীয় দল এসে বারবার দেখে গেছে কীভাবে চুরির মহোৎসব চলছে। হিসেব দিলেই টাকা আসবে, চুরির জন্য কেন্দ্র আর টাকা দেবে না।"

সিঙ্গুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বাংলায় 'জঙ্গলরাজ' শেষ করে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আদর্শ অনুসরণ করার ডাক দিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ ঘোষ বলেন, "সিঙ্গুরকে যারা শ্মশান বানিয়েছে, আজ তারাই বাংলার সংস্কৃতি নষ্ট করছে। বিদ্যাসাগর নারী শিক্ষার কথা বলেছিলেন, আর এই সরকারের আমলে মহিলারা সবথেকে বেশি অসুরক্ষিত। প্রধানমন্ত্রীর কথা একদম সঠিক—বাংলার হারানো গৌরব ফেরাতে হলে এই জঙ্গলরাজ উপড়ে ফেলা দরকার।"


বাংলার সীমান্ত সুরক্ষা যে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়, তা রবিবারই স্পষ্ট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ১১ বছর ধরে সীমান্ত কাঁটাতারের জন্য রাজ্য জমি দিচ্ছে না—এই অভিযোগ প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, "রাজ্য সরকার অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিতে চায়, তাই তারা সীমান্তে ফেন্সিং করতে বাধা দিচ্ছে। ১১ বছর ধরে জমি আটকে রাখা মানে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে খেলা করা। সিন্ডিকেট আর ভোটব্যাংকের রাজনীতির জন্য নবান্ন আজ দেশের সুরক্ষা বন্ধক রাখছে।"

সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই এখন আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নিয়েছে। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন 'বঞ্চনা'র ইস্যু তুলে মানুষের আবেগকে উসকে দিতে চাইছেন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে সিঙ্গুর ও নদীয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে 'জঙ্গলরাজ' এবং 'জাতীয় নিরাপত্তা'র প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় তুলছেন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য জমি না দেওয়া এবং কেন্দ্রের তহবিল সংক্রান্ত বিতর্ক আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে আরও বড় মোড় নিতে চলেছে। এই বাগযুদ্ধ কেবল কথার লড়াই নয়, বরং রাজ্যের প্রশাসনিক সমন্বয় ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে এক গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে। নবান্ন বনাম রাজভবন ও কেন্দ্র—এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোটারের রায়কে কতটা প্রভাবিত করে, এখন সেটাই দেখার।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ, কলকাতা

বিষয় : পশ্চিমবঙ্গ

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


জঙ্গলরাজ খতম হবেই: নিউটাউনে হুঙ্কার দিলীপের

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
কলকাতা: সোমবার সকালে নিউটাউনের ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে ফের চেনা মেজাজে ধরা দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রবিবার নদীয়ার সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগ এবং সিঙ্গুরের সভায় প্রধানমন্ত্রীর করা মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সোমবার রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেন তিনি।রবিবার নদীয়ার সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করে বাংলার টাকা আটকে রাখছেন। এর জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, "টাকা কি কারও পৈতৃক সম্পত্তি? কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ মানুষের টাকা পাঠায় উন্নয়নের জন্য। কিন্তু গত কয়েক বছরে বাংলায় সেই টাকার হিসেব নেই। কেন্দ্রীয় দল এসে বারবার দেখে গেছে কীভাবে চুরির মহোৎসব চলছে। হিসেব দিলেই টাকা আসবে, চুরির জন্য কেন্দ্র আর টাকা দেবে না।"সিঙ্গুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বাংলায় 'জঙ্গলরাজ' শেষ করে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আদর্শ অনুসরণ করার ডাক দিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ ঘোষ বলেন, "সিঙ্গুরকে যারা শ্মশান বানিয়েছে, আজ তারাই বাংলার সংস্কৃতি নষ্ট করছে। বিদ্যাসাগর নারী শিক্ষার কথা বলেছিলেন, আর এই সরকারের আমলে মহিলারা সবথেকে বেশি অসুরক্ষিত। প্রধানমন্ত্রীর কথা একদম সঠিক—বাংলার হারানো গৌরব ফেরাতে হলে এই জঙ্গলরাজ উপড়ে ফেলা দরকার।"বাংলার সীমান্ত সুরক্ষা যে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়, তা রবিবারই স্পষ্ট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ১১ বছর ধরে সীমান্ত কাঁটাতারের জন্য রাজ্য জমি দিচ্ছে না—এই অভিযোগ প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, "রাজ্য সরকার অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিতে চায়, তাই তারা সীমান্তে ফেন্সিং করতে বাধা দিচ্ছে। ১১ বছর ধরে জমি আটকে রাখা মানে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে খেলা করা। সিন্ডিকেট আর ভোটব্যাংকের রাজনীতির জন্য নবান্ন আজ দেশের সুরক্ষা বন্ধক রাখছে।"সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই এখন আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নিয়েছে। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন 'বঞ্চনা'র ইস্যু তুলে মানুষের আবেগকে উসকে দিতে চাইছেন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে সিঙ্গুর ও নদীয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে 'জঙ্গলরাজ' এবং 'জাতীয় নিরাপত্তা'র প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় তুলছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য জমি না দেওয়া এবং কেন্দ্রের তহবিল সংক্রান্ত বিতর্ক আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে আরও বড় মোড় নিতে চলেছে। এই বাগযুদ্ধ কেবল কথার লড়াই নয়, বরং রাজ্যের প্রশাসনিক সমন্বয় ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে এক গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে। নবান্ন বনাম রাজভবন ও কেন্দ্র—এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোটারের রায়কে কতটা প্রভাবিত করে, এখন সেটাই দেখার।হিডেন স্টোরিজ নিউজ, কলকাতা

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার