পশ্চিমবঙ্গের ভোটারতালিকায় নাম সংশোধন এবং তথ্যগত ত্রুটি (Logical Discrepancy) দূর করার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আরও একটি বড় পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটারদের পরিচয় বা বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসাবে গ্রহণ করতে হবে।
ভোটারতালিকায় নাম থাকা কোটি কোটি মানুষের কাছে নির্বাচন কমিশন যে নোটিশ পাঠিয়েছে, তাতে নথিপত্র নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। অনেকের কাছেই আধার কার্ড বা প্যান কার্ডে ভুল থাকায় তাঁরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে- বয়স বা পরিচয়ের প্রমাণ হিসাবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা সমতুল্য পরীক্ষার সংশাপত্র এখন থেকে বৈধ বলে গণ্য হবে। এছাড়া রেশন কার্ড, ড্রাইভিন লাইসেন্স বা সরকারের ইস্যু করা অন্য যেকোনও ফটো আইডেন্টিটি কার্ডও কমিশনকে গ্রহণ করতে হবে। যদি কোনও ভোটারের কাছে মূল নথি না থাকে, তবে ডিজিলকার (DigiLocker) বা সরকারি অ্যাপে থাকা নথির ডিজিটাল কপিও গ্রাহ্য করতে হবে।
আদালত সাফ জানিয়েছে, নথির অভাবে কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছিল, সামান্য বানানের ভুলের জন্য ভোটারদের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বিডিও অফিসে বারবার ছুটতে হচ্ছিল। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, "সাধারণ মানুষকে নথির জালে জড়িয়ে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া হতে হবে সহজ ও স্বচ্ছ।"
উল্লেখ্য, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব গত কয়েকদিন ধরে এসআইআর নোটিশ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে যে আওয়াজ তুলেছিল, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় তাকে আরও জোরালো করল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। আদালতের এই নির্দেশের পর এখন মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ব্যবহার করেই লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁদের ভোটারতালিকায় নাম নিশ্চিত করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি বুথস্তরে যেন এই নির্দেশের কথা প্রচার করা হয়। বিএলওরা যখন বাড়ি বাড়ি যাবেন বা যখন ক্যাম্প হবে, তখন যেন তাঁরা এই বর্ধিত নথির তালিকা মেনে চলেন।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন