ঢাকা ও কলকাতা: বাংলাদেশে গত এক বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ঘটা অপরাধের ঘটনাগুলি মূলত ‘অসাম্প্রদায়িক’ বা ফৌজদারি অপরাধ! কোনও ধর্মীয় বিদ্বেষ বা সাম্প্রদায়িক সংঘাত থেকে এই ঘটনাগুলি ঘটেনি বলে দাবি করল সে দেশের মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, সম্প্রতি ভারতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশের ১০ দিনের মাথায় এই তথ্য প্রকাশ করল ঢাকা।
গত ৯ জানুয়ারি ভারত সরকার বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি ও মন্দিরে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সোমবার (১৯ জানুয়ারি, ২০২৫) তার পাল্টা জবাবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং থেকে পুলিশ সদর দফতরের একটি পর্যালোচনা রিপোর্ট পেশ করা হয়। সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের উপর ঘটা মোট ঘটনার মধ্যে সিংহভাগই অসাম্প্রদায়িক বা ব্যক্তিগত বিরোধের ফল।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, গত এক বছরে ভেরিফায়েড এফআইআর ও চার্জশিট অনুযায়ী মোট ৬৪৫টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৭১টি ঘটনাকে ‘সাম্প্রদায়িক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ৫৭৪টি ঘটনাই অসাম্প্রদায়িক বা সাধারণ অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনাগুলির মূলে রয়েছে জমি সংক্রান্ত বিবাদ, রাজনৈতিক রেষারেষি, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা চুরির মতো অপরাধ। এর সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনও যোগসূত্র নেই বলে দাবি প্রশাসনের।
উল্লেখ্য, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হয়েছিল, বাংলাদেশে হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও উপাসনালয় লক্ষ করে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এই অভিযোগকে ‘তথ্যহীন আতঙ্ক’ বা ‘ভ্রান্ত প্রচার’ হিসাবে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, সরকার দেশে মানবাধিকার রক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী।
সংশ্লিষ্ট রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে অনেক সংখ্যালঘু রাজনৈতিক কারণে আক্রান্ত হয়েছিলেন। যেহেতু বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের একটি বড় অংশ নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসাবে পরিচিত, তাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়াকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসাবে দেখা ভুল হবে বলে মনে করছে ঢাকা।
পুলিশ জানিয়েছে, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিটি অভিযোগকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই সাম্প্রদায়িক হিংসার অভিযোগে ১ শতাংশের বেশি ঘটনায় মামলা রুজু করে অপরাধীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলির একটি বড় অংশ সরকারের এই পরিসংখ্যান নিয়ে দ্বিমত পোষণ করছে। তাদের মতে, বাস্তবে ভয়ের পরিবেশ থাকায় অনেক ঘটনাই পুলিশের খাতায় ওঠে না।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন