ওয়াশিংটন: আবারও বিতর্কিত সোশ্যাল-পোস্ট করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ একটি মানচিত্র শেয়ার করেছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে কানাডা, ভেনেজুয়েলা এবং গ্রিনল্যান্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ!
ট্রাম্পের শেয়ার করা ওই মানচিত্রে উত্তর আমেরিকার ভৌগোলিক সীমারেখা সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, সম্পূর্ণ কানাডাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত! ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপভূমি - গ্রিনল্যান্ডকেও আমেরিকার ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে! পাশাপাশি, দক্ষিণ আমেরিকার স্বাধীন রাষ্ট্র - ভেনেজুয়েলাকেও বাদ দেওয়া হয়নি। সেটিকেও মার্কিন পতাকার রঙে রাঙানো হয়েছে। সব মিলিয়ে মানচিত্রটিতে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিশাল এক অংশকে একটি একক মার্কিন সাম্রাজ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে!
তথ্যাভিজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই পোস্টটি মূলত তাঁর 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির একটি চরম প্রতিফলন। এর আগে তাঁর প্রথম মেয়াদে তিনি গ্রিনল্যান্ড কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। যা নিয়ে তখন ডেনমার্ক সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। আবার, সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য ও সীমান্ত শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এই মানচিত্র শেয়ার করাকে একটি শক্তিশালী 'রাজনৈতিক বার্তা' হিসাবেও দেখছেন অনেকে।
এই মানচিত্রটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কানাডার নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ট্রাম্পের সমর্থকরা এটিকে তাঁর রসবোধ এবং আমেরিকার আধিপত্য বিস্তারের প্রতীক হিসাবে দেখছেন। তবে, সমালোচকরা একে অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম অবমাননাকর বলে অভিহিত করছেন।
কানাডা বা ডেনমার্ক সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো না হলেও, কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে বেশ অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন