মগরাহাট: ফের ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের। এবারের ঘটনাস্থল অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারলু এলাকা। চুরির অপবাদ দিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটের বাসিন্দা মনজুর আলম লস্করকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিম্যধেই দানা বেঁধেছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার রঙ্গিলাবাদ গ্রামের গোয়ালখালি এলাকার বাসিন্দা মনজুর আলম লস্কর অন্ধ্রপ্রদেশে জরির কাজ করতে গিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, গত মঙ্গলবার তাঁদের কাছে একটি উড়ো ফোন আসে। ফোনে মনজুরকে আটকে রাখার কথা জানিয়ে ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
আতঙ্কিত পরিবার তড়িঘড়ি অনলাইনে ৬ হাজার টাকা পাঠালেও লাভ হয়নি। বুধবার পরিবারের কাছে মনজুরের মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। পরিবারের অভিযোগ, চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মনজুরকে আটকে রেখে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে, যার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। তাদের অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার কারণেই মনজুরকে নিশানা করা হয়েছে। বিজেপি কর্মীরাই এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিককালে বাংলার একের পর এক পরিযায়ী শ্রমিকের ভিনরাজ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তর্ক-বিতর্ক চলছেই। যেমন - গত ১৬ জানুয়ারি ঝাড়খণ্ডে খুন হন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ। এদিকে, আজই (২২ জানুয়ারি, ২০২৬) চেন্নাইয়ে রেললাইনের ধার থেকে উদ্ধার হয় মালদহের এক শ্রমিকের ক্ষতবিক্ষত দেহ।
তার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। মগরাহাটের গোয়ালখালি গ্রামে এখন শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে দিশেহারা পরিজনেরা এখন দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন