কলকাতা: টলিউড অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে কড়া পদক্ষেপ করল পুলিশ। বুধবার রাতেই আনন্দপুর থানায় হিরণের স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিবাহিত থাকা অবস্থাতেই হিরণ চট্টোপাধ্যায় ও হৃতিকা গিরি অবৈধভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। হিরণের পাশাপাশি তাঁর নতুন স্ত্রী হৃতিকার বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে অনিন্দিতার স্বামী ও তাঁর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ হিরণের বিরুদ্ধে বিএনএস-এর ৮২(১), ৮৫ এবং ৫৪ ধারায় মামলা রুজু করেছে।
তথ্য বলছে, দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রমাণিত হলে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বড়সড় শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন -
ধারা ৮২(১) (দ্বিবিবাহ): ভারতীয় ন্যায় সংহিতার এই ধারা অনুযায়ী, স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও পুনরায় বিবাহ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধ প্রমাণিত হলে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে।
ধারা ৮৫ (নিষ্ঠুরতা): কোনও মহিলার উপর স্বামী বা তাঁর আত্মীয়রা মানসিক বা শারীরিক নিষ্ঠুরতা চালালে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এটি একটি জামিন অযোগ্য অপরাধ।
ধারা ৫৪ (অপরাধে সহায়তা): কোনও অপরাধ সংঘটনের সময় যদি সহায়তাকারী সশরীরে উপস্থিত থাকেন, তবে ধরে নেওয়া হয় তিনি নিজে সেই অপরাধটি করেছেন। হৃতিকা গিরির উপস্থিতির প্রেক্ষিতে এই ধারাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে আনন্দপুর থানার পুলিশ। এই মামলার জেরে বিধায়কের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি হল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন