Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মাঠের লড়াই থেকে সাংবাদিকতা: আইসিসি-বাংলাদেশ দ্বন্দ্বে ‘মিডিয়া ব্ল্যাকআউট’-এর কালো ছায়া?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
মাঠের লড়াই থেকে সাংবাদিকতা: আইসিসি-বাংলাদেশ দ্বন্দ্বে ‘মিডিয়া ব্ল্যাকআউট’-এর কালো ছায়া?

ক্রিকেট এবং রাজনীতি যখন একই পিচে খেলা শুরু করে, তখন মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে কূটনৈতিক লড়াই। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া এবং এর ঠিক পরই অন্তত ১৫০ জন বাংলাদেশি সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন (বিশ্বকাপ কভার করার অনুমতিপত্র) বাতিলের ঘটনা সেই তিক্ততারই চরম বহিঃপ্রকাশ। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের একাংশ অন্তত এমনটাই মনে করছে। যে টুর্নামেন্টে দল নেই, সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার কেড়ে নেওয়া কেবল একটি ‘প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত’ নাকি সুপরিকল্পিত ‘শাস্তি’, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে কাটাছেঁড়া!


ঘটনার সূত্রপাত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকার করে এবং ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি জানায়। আইসিসি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু, সংঘাত সেখানেই থেমে থাকেনি। আইসিসি-র সাম্প্রতিক পদক্ষেপে দেখা যাচ্ছে, দল না থাকলেও মাঠের খবর সংগ্রহের যে চিরাচরিত অধিকার সাংবাদিকদের থাকে, তাও খর্ব করা হয়েছে।


তথ্য বিশ্লেষণ: নজিরবিহীন এই সিদ্ধান্তের প্রভাব


১. আইসিসি-র অলিখিত ‘শাস্তি’? 


নিয়ম অনুযায়ী, পূর্ণ সদস্য দেশ হিসাবে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে না থাকলেও সে দেশের সংবাদমাধ্যমের ইভেন্ট কভার করার সুযোগ পাওয়ার কথা। ১৯৯৬ সাল থেকে টানা বিশ্বকাপ কভার করা প্রবীণ সাংবাদিক আরিফুর রহমান বাবুদের মতো ব্যক্তিদেরও এবার ব্রাত্য রাখা হয়েছে। প্রথমে অনুমতি দিয়েও (মীর ফরিদের ক্ষেত্রে যেমনটি ঘটেছে) পরে তা ইমেল মারফত বাতিল করা — আইসিসি-র এই ‘ইউ-টার্ন’ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে এটি কেবল প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং একটি সচেতন অবস্থান।


২. নিরাপত্তা অজুহাত ও পাল্টা যুক্তি 


কিছু সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ সরকার ভারতকে ‘অনিরাপদ’ বলায় আইসিসি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাংবাদিকদের ভিসা ও কার্ড বাতিল করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের কাজ পেশাদারিত্বের সঙ্গে খবর পরিবেশন করা। কোনও দেশের সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য সে দেশের সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার কেড়ে নেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর বড় আঘাত।
সারণি: ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত টাইমলাইন


তারিখ বিশেষ ঘটনা
২০ জানুয়ারি কিছু সাংবাদিককে আইসিসি থেকে কভারেজের প্রাথমিক অনুমতি ও ভিসা সাপোর্ট লেটার দেওয়া হয়।
২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি।
২৬ জানুয়ারি পূর্বের অনুমতি বাতিল করে সাংবাদিকদের কাছে ইমেল পাঠানো শুরু হয়।
২৭ জানুয়ারি বিসিবি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় ১৫০ জন সাংবাদিকের আবেদনই খারিজ হয়ে গিয়েছে।


বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু এই সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, আইসিসির এই নীরবতা এবং সাংবাদিকদের ব্রাত্য রাখার সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ ও আইসিসির সম্পর্কে ফাটল আরও চওড়া করবে। যেখানে ফুটবল বিশ্বকাপে দল না থাকলেও সব দেশের সাংবাদিকদের স্বাগত জানানো হয়, সেখানে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার এই আচরণ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এক ক্রীড়া বিশ্লেষকের কথায়, "এটি কেবল ১৫০ জন সাংবাদিকের পরিচয়পত্র বাতিল নয়। বরং, একটি ক্রিকেট পাগল জাতির সংবাদ পাওয়ার মৌলিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ। মাঠের ক্রিকেটে বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু, তথ্য সরবরাহ বন্ধ করা কোনও সুস্থ ক্রীড়া সংস্কৃতির পরিচয় নয়।"

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


মাঠের লড়াই থেকে সাংবাদিকতা: আইসিসি-বাংলাদেশ দ্বন্দ্বে ‘মিডিয়া ব্ল্যাকআউট’-এর কালো ছায়া?

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
ক্রিকেট এবং রাজনীতি যখন একই পিচে খেলা শুরু করে, তখন মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে কূটনৈতিক লড়াই। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া এবং এর ঠিক পরই অন্তত ১৫০ জন বাংলাদেশি সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন (বিশ্বকাপ কভার করার অনুমতিপত্র) বাতিলের ঘটনা সেই তিক্ততারই চরম বহিঃপ্রকাশ। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের একাংশ অন্তত এমনটাই মনে করছে। যে টুর্নামেন্টে দল নেই, সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার কেড়ে নেওয়া কেবল একটি ‘প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত’ নাকি সুপরিকল্পিত ‘শাস্তি’, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে কাটাছেঁড়া!ঘটনার সূত্রপাত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকার করে এবং ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি জানায়। আইসিসি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু, সংঘাত সেখানেই থেমে থাকেনি। আইসিসি-র সাম্প্রতিক পদক্ষেপে দেখা যাচ্ছে, দল না থাকলেও মাঠের খবর সংগ্রহের যে চিরাচরিত অধিকার সাংবাদিকদের থাকে, তাও খর্ব করা হয়েছে।তথ্য বিশ্লেষণ: নজিরবিহীন এই সিদ্ধান্তের প্রভাব১. আইসিসি-র অলিখিত ‘শাস্তি’? নিয়ম অনুযায়ী, পূর্ণ সদস্য দেশ হিসাবে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে না থাকলেও সে দেশের সংবাদমাধ্যমের ইভেন্ট কভার করার সুযোগ পাওয়ার কথা। ১৯৯৬ সাল থেকে টানা বিশ্বকাপ কভার করা প্রবীণ সাংবাদিক আরিফুর রহমান বাবুদের মতো ব্যক্তিদেরও এবার ব্রাত্য রাখা হয়েছে। প্রথমে অনুমতি দিয়েও (মীর ফরিদের ক্ষেত্রে যেমনটি ঘটেছে) পরে তা ইমেল মারফত বাতিল করা — আইসিসি-র এই ‘ইউ-টার্ন’ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে এটি কেবল প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং একটি সচেতন অবস্থান।২. নিরাপত্তা অজুহাত ও পাল্টা যুক্তি কিছু সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ সরকার ভারতকে ‘অনিরাপদ’ বলায় আইসিসি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাংবাদিকদের ভিসা ও কার্ড বাতিল করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের কাজ পেশাদারিত্বের সঙ্গে খবর পরিবেশন করা। কোনও দেশের সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য সে দেশের সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার কেড়ে নেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর বড় আঘাত।সারণি: ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত টাইমলাইনতারিখ বিশেষ ঘটনা ২০ জানুয়ারি কিছু সাংবাদিককে আইসিসি থেকে কভারেজের প্রাথমিক অনুমতি ও ভিসা সাপোর্ট লেটার দেওয়া হয়। ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। ২৬ জানুয়ারি পূর্বের অনুমতি বাতিল করে সাংবাদিকদের কাছে ইমেল পাঠানো শুরু হয়। ২৭ জানুয়ারি বিসিবি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় ১৫০ জন সাংবাদিকের আবেদনই খারিজ হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু এই সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, আইসিসির এই নীরবতা এবং সাংবাদিকদের ব্রাত্য রাখার সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ ও আইসিসির সম্পর্কে ফাটল আরও চওড়া করবে। যেখানে ফুটবল বিশ্বকাপে দল না থাকলেও সব দেশের সাংবাদিকদের স্বাগত জানানো হয়, সেখানে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার এই আচরণ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এক ক্রীড়া বিশ্লেষকের কথায়, "এটি কেবল ১৫০ জন সাংবাদিকের পরিচয়পত্র বাতিল নয়। বরং, একটি ক্রিকেট পাগল জাতির সংবাদ পাওয়ার মৌলিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ। মাঠের ক্রিকেটে বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু, তথ্য সরবরাহ বন্ধ করা কোনও সুস্থ ক্রীড়া সংস্কৃতির পরিচয় নয়।"

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার