Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

আড়াই ঘণ্টার ‘ভ্যালু’ ৯ লক্ষ টাকা! রেলের পকেটে বড়সড় ফুটো করলেন লখনউয়ের ছাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
আড়াই ঘণ্টার ‘ভ্যালু’ ৯ লক্ষ টাকা! রেলের পকেটে বড়সড় ফুটো করলেন লখনউয়ের ছাত্রী

আমরা তো অভ্যস্ত — ট্রেন দু-তিন ঘণ্টা লেট মানেই প্ল্যাটফর্মে বসে ঝালমুড়ি খাওয়া আর রেলের গুষ্টি উদ্ধার করা! এটুকু করেই যেন খুশি হয়ে যাই! কিন্তু, উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলার সমৃদ্ধি নামে এক ছাত্রী দেখিয়ে দিলেন, রেলের এই ‘সময়জ্ঞানহীনতা’র দাম কত হতে পারে। আড়াই ঘণ্টা ট্রেন লেট হওয়ার খেসারত হিসাবে ভারতীয় রেলকে এখন গুনতে হবে ৯ লক্ষ ১০ হাজার টাকা!


ঠিক কী ঘটেছিল?

ফ্ল্যাশব্যাকে যাওয়া যাক ২০১৮ সালে। লখনউয়ের পিজি কলেজে বিএসসি প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে ইন্টারসিটি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে চড়েছিলেন সমৃদ্ধি। ভেবেছিলেন ‘সুপারফাস্ট’ নাম যখন, তখন ঠিক সময়েই পৌঁছে দেবে। কিন্তু, ট্রেনের ‘মনে’ হয়তো অন্য কোনও পরিকল্পনা ছিল। মাঝপথে ট্রেনটি সেই যে থেমে গেল, আর নড়ার নাম নেই! ফল? গন্তব্যে পৌঁছতে আড়াই ঘণ্টা দেরি। পরীক্ষার গেট ততক্ষণে বন্ধ। সমৃদ্ধির একটি আস্ত বছর নষ্ট হল। সেইসঙ্গে, জলে গেল ৩৬৫ দিনের হাড়ভাঙা খাটুনি।


আর পাঁচজন হলে হয়তো কপাল চাপড়ে বাড়ি ফিরতেন। কিন্তু, সমৃদ্ধি সোজা পৌঁছে গেলেন ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে। দাবি করলেন ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ। শুরু হল আইনি লড়াই। রেলের পক্ষ থেকে কতশত অজুহাত দেওয়া হল ঠিক নেই। কিন্তু, সাত বছর পর লখনউয়ের আদালত সাফ জানিয়ে দিল — “পরিষেবা দিতে না পারলে টাকা তো দিতেই হবে, বাপু!”


কমিশনের নির্দেশের হাইলাইটস:


পরিষেবায় ঘাটতি: সময়মতো ট্রেন চালানো রেলের কর্তব্য, সেটা কোনও দয়া নয়। সেই কর্তব্যে ফেল করায় রেল এখানে অবশ্যই দোষী।


জরিমানা: ১২ শতাংশ সুদ-সহ মোট ৯ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দিতে হবে ছাত্রীকে।


সময়সীমা: আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই টাকা সমৃদ্ধির অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হবে।


ভারতবর্ষে সাধারণত ট্রেন লেট হওয়াকে আমরা ‘নিয়তি’ বলে মেনে নিই। কিন্তু, ৯ লক্ষ টাকার এই চড় খাওয়ার পর রেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই এরপর থেকে সিগন্যাল দেওয়ার আগে দু’বার ভাববে। সমৃদ্ধি প্রমাণ করে দিলেন, ভারতীয় রেলে শুধু চশমা বা মোবাইল চুরি হয় না, সময় চুরি হলেও তার বিচার পাওয়া যায়। তবে বিচার পেতে ধৈর্য্যটা অন্তত সাত বছরের হওয়া চাই!

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


আড়াই ঘণ্টার ‘ভ্যালু’ ৯ লক্ষ টাকা! রেলের পকেটে বড়সড় ফুটো করলেন লখনউয়ের ছাত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
আমরা তো অভ্যস্ত — ট্রেন দু-তিন ঘণ্টা লেট মানেই প্ল্যাটফর্মে বসে ঝালমুড়ি খাওয়া আর রেলের গুষ্টি উদ্ধার করা! এটুকু করেই যেন খুশি হয়ে যাই! কিন্তু, উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলার সমৃদ্ধি নামে এক ছাত্রী দেখিয়ে দিলেন, রেলের এই ‘সময়জ্ঞানহীনতা’র দাম কত হতে পারে। আড়াই ঘণ্টা ট্রেন লেট হওয়ার খেসারত হিসাবে ভারতীয় রেলকে এখন গুনতে হবে ৯ লক্ষ ১০ হাজার টাকা!ঠিক কী ঘটেছিল?ফ্ল্যাশব্যাকে যাওয়া যাক ২০১৮ সালে। লখনউয়ের পিজি কলেজে বিএসসি প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে ইন্টারসিটি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে চড়েছিলেন সমৃদ্ধি। ভেবেছিলেন ‘সুপারফাস্ট’ নাম যখন, তখন ঠিক সময়েই পৌঁছে দেবে। কিন্তু, ট্রেনের ‘মনে’ হয়তো অন্য কোনও পরিকল্পনা ছিল। মাঝপথে ট্রেনটি সেই যে থেমে গেল, আর নড়ার নাম নেই! ফল? গন্তব্যে পৌঁছতে আড়াই ঘণ্টা দেরি। পরীক্ষার গেট ততক্ষণে বন্ধ। সমৃদ্ধির একটি আস্ত বছর নষ্ট হল। সেইসঙ্গে, জলে গেল ৩৬৫ দিনের হাড়ভাঙা খাটুনি।আর পাঁচজন হলে হয়তো কপাল চাপড়ে বাড়ি ফিরতেন। কিন্তু, সমৃদ্ধি সোজা পৌঁছে গেলেন ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে। দাবি করলেন ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ। শুরু হল আইনি লড়াই। রেলের পক্ষ থেকে কতশত অজুহাত দেওয়া হল ঠিক নেই। কিন্তু, সাত বছর পর লখনউয়ের আদালত সাফ জানিয়ে দিল — “পরিষেবা দিতে না পারলে টাকা তো দিতেই হবে, বাপু!”কমিশনের নির্দেশের হাইলাইটস:পরিষেবায় ঘাটতি: সময়মতো ট্রেন চালানো রেলের কর্তব্য, সেটা কোনও দয়া নয়। সেই কর্তব্যে ফেল করায় রেল এখানে অবশ্যই দোষী।জরিমানা: ১২ শতাংশ সুদ-সহ মোট ৯ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দিতে হবে ছাত্রীকে।সময়সীমা: আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই টাকা সমৃদ্ধির অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হবে।ভারতবর্ষে সাধারণত ট্রেন লেট হওয়াকে আমরা ‘নিয়তি’ বলে মেনে নিই। কিন্তু, ৯ লক্ষ টাকার এই চড় খাওয়ার পর রেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই এরপর থেকে সিগন্যাল দেওয়ার আগে দু’বার ভাববে। সমৃদ্ধি প্রমাণ করে দিলেন, ভারতীয় রেলে শুধু চশমা বা মোবাইল চুরি হয় না, সময় চুরি হলেও তার বিচার পাওয়া যায়। তবে বিচার পেতে ধৈর্য্যটা অন্তত সাত বছরের হওয়া চাই!

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার