কলকাতা: রবিবার ভোররাতের ভয়াবহ আগুন ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার পরেও শান্ত হয়নি। কলকাতার উপকণ্ঠে নরেন্দ্রপুর থানার নাজিরাবাদের সেই ‘মৃত্যুপুরী’ থেকে মঙ্গলবার দুপুরেও ধোঁয়া বেরোতে দেখা গিয়েছে। দমকলকর্মীরা এদিনও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ‘পকেট ফায়ার’ নেভানোর কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। চারিদিকে শুধু পোড়া গন্ধ আর ধ্বংসস্তূপের মাঝে স্বজনহারাদের হাহাকার!
এই অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা এতটাই ছিল যে উদ্ধার হওয়া দেহগুলি চেনার উপায় নেই। পুলিশ এখনও পর্যন্ত তিনজনের দেহাংশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। যদিও স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা অন্তত আট। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষাই একমাত্র পথ। ইতিমধ্যেই থানায় আটজনের নিখোঁজ হওয়ার ডায়ারি নথিভুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসনও সক্রিয় হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ দুটি এফআইআর দায়ের করেছে। সংশ্লিষ্ট গোডাউন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। আগুনের উৎস এবং কারণ জানতে ল্যাবরেটরিতে এই নমুনা পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি, এদিন সকালে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনাস্থলে যান ফিরহাদ হাকিম। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন ও উদ্ধারকাজের তদারকি করেন।
গত রবিবার রাত ৩টে নাগাদ নাজিরাবাদের একটি ডেকোরেটরের গোডাউনে প্রথম আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন পাশের একটি অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থার গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাতে কর্মীরা যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই এই বিপর্যয় নেমে আসে। কতজন কর্মী ভেতরে আটকে ছিলেন, তার সঠিক হিসাব এখনও প্রশাসনের হাতে নেই।
পুরো এলাকা বর্তমানে পুলিশ কর্ডন করে রেখেছে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছে। যাতে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের প্রিয়জনকে শনাক্ত করতে পারেন। ডেকোরেটর ও ফুড ডেলিভারি সংস্থার গোডাউনে অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা আদৌ ছিল কিনা, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন