Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য রাজ্যকে জমি হস্তান্তরের ডেডলাইন বেঁধে দিল হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য রাজ্যকে জমি হস্তান্তরের ডেডলাইন বেঁধে দিল হাইকোর্ট

কলকাতা: আন্তর্জাতিক সীমান্ত রক্ষা এবং অনুপ্রবেশ রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'কাঁটাতারের বেড়া' নির্মাণ নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকায় তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার এক প্রাক্তন সেনাকর্মীর দায়ের করা মামলার শুনানিতে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ১৮০ কিলোমিটার কাঁটাতার দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দিতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে যে কোনও প্রকার 'অজুহাত' বা 'প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা' বরদাস্ত করা হবে না, তা প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণেই স্পষ্ট।


প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার রাজ্যের অবস্থান নিয়ে একাধিক কড়া প্রশ্ন তোলে। বিচারপতিদের প্রশ্ন ছিল, কেন এই নিষ্ক্রিয়তা? যে রাজ্য নিজে আন্তর্জাতিক সীমান্তের অংশীদার, তারা কেন জমি অধিগ্রহণে নিজস্ব অধিকার প্রয়োগ করছে না? ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ নম্বর ধারা (জরুরি ভিত্তিতে অধিগ্রহণ) প্রয়োগ করে কেন দ্রুত জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে না? আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যেসব জমির টাকা কেন্দ্র ইতিমধ্যেই দিয়ে দিয়েছে, তা হস্তান্তরে 'এসআইআর' প্রক্রিয়ার দোহাই দেওয়া চলবে না।


সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্তের এক বিশাল অংশে কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় ১৮০ কিমি জমির দাম কেন্দ্র মিটিয়ে দিয়েছে। তবুও রাজ্য ক্যাবিনেটের অনুমোদন না মেলায় প্রক্রিয়াটি থমকে আছে। কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী জানান, যেহেতু এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়, তাই জেলা কালেক্টর সরাসরি জরুরি আইন প্রয়োগ করে জমি নিতে পারেন। ২০১৬ সাল থেকে এই সীমান্ত ব্যবহার করে যে মাদক পাচার বেড়েছে, তাও আদালতে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, রাজ্যের তরফে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, রাজ্য সরকার ‘জোর করে জমি অধিগ্রহণ’-এর নীতির বিরোধী। তাই ৪০ নম্বর ধারা প্রয়োগ করতে তারা নারাজ। তবে তারা আশ্বাস দিয়েছে, ২০২৬-এর মার্চের মধ্যে অধিকাংশ জমি হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।


জেলাভিত্তিক জমি হস্তান্তরের সম্ভাব্য সময়সূচী (রাজ্যের দাবি অনুযায়ী):


জেলা হস্তান্তরের সম্ভাব্য সময়

অধিকাংশ জেলা ৩১ মার্চ, ২০২৬-এর মধ্যে

দক্ষিণ দিনাজপুর মে, ২০২৬

জলপাইগুড়ি জুন, ২০২৬

মুর্শিদাবাদ জুন, ২০২৬


হাইকোর্ট এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ করা যায় কিনা, সেই বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় পক্ষকেই হলফনামা জমা দিতে হবে। আগামী ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি।


ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই আইনি লড়াই কেবল জমি হস্তান্তরের নয়, বরং এটি রাজ্যের ‘জমি নীতি’ বনাম কেন্দ্রের ‘জাতীয় নিরাপত্তা অগ্রাধিকার’-এর লড়াই। রাজ্য যেখানে জমি হস্তান্তরের জন্য মে-জুন মাস পর্যন্ত সময় চাইছে, সেখানে আদালত ৩১ মার্চের ডেডলাইন দিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোর চাপ তৈরি করল। মাদকপাচার ও অনুপ্রবেশ রোধে এই কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ কত দ্রুত সম্পন্ন হয়, এখন সেটাই দেখার।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য রাজ্যকে জমি হস্তান্তরের ডেডলাইন বেঁধে দিল হাইকোর্ট

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
কলকাতা: আন্তর্জাতিক সীমান্ত রক্ষা এবং অনুপ্রবেশ রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'কাঁটাতারের বেড়া' নির্মাণ নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকায় তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার এক প্রাক্তন সেনাকর্মীর দায়ের করা মামলার শুনানিতে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ১৮০ কিলোমিটার কাঁটাতার দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দিতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে যে কোনও প্রকার 'অজুহাত' বা 'প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা' বরদাস্ত করা হবে না, তা প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণেই স্পষ্ট।প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার রাজ্যের অবস্থান নিয়ে একাধিক কড়া প্রশ্ন তোলে। বিচারপতিদের প্রশ্ন ছিল, কেন এই নিষ্ক্রিয়তা? যে রাজ্য নিজে আন্তর্জাতিক সীমান্তের অংশীদার, তারা কেন জমি অধিগ্রহণে নিজস্ব অধিকার প্রয়োগ করছে না? ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ নম্বর ধারা (জরুরি ভিত্তিতে অধিগ্রহণ) প্রয়োগ করে কেন দ্রুত জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে না? আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যেসব জমির টাকা কেন্দ্র ইতিমধ্যেই দিয়ে দিয়েছে, তা হস্তান্তরে 'এসআইআর' প্রক্রিয়ার দোহাই দেওয়া চলবে না।সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্তের এক বিশাল অংশে কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় ১৮০ কিমি জমির দাম কেন্দ্র মিটিয়ে দিয়েছে। তবুও রাজ্য ক্যাবিনেটের অনুমোদন না মেলায় প্রক্রিয়াটি থমকে আছে। কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী জানান, যেহেতু এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়, তাই জেলা কালেক্টর সরাসরি জরুরি আইন প্রয়োগ করে জমি নিতে পারেন। ২০১৬ সাল থেকে এই সীমান্ত ব্যবহার করে যে মাদক পাচার বেড়েছে, তাও আদালতে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, রাজ্যের তরফে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, রাজ্য সরকার ‘জোর করে জমি অধিগ্রহণ’-এর নীতির বিরোধী। তাই ৪০ নম্বর ধারা প্রয়োগ করতে তারা নারাজ। তবে তারা আশ্বাস দিয়েছে, ২০২৬-এর মার্চের মধ্যে অধিকাংশ জমি হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।জেলাভিত্তিক জমি হস্তান্তরের সম্ভাব্য সময়সূচী (রাজ্যের দাবি অনুযায়ী):জেলা হস্তান্তরের সম্ভাব্য সময়অধিকাংশ জেলা ৩১ মার্চ, ২০২৬-এর মধ্যেদক্ষিণ দিনাজপুর মে, ২০২৬জলপাইগুড়ি জুন, ২০২৬মুর্শিদাবাদ জুন, ২০২৬হাইকোর্ট এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ করা যায় কিনা, সেই বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় পক্ষকেই হলফনামা জমা দিতে হবে। আগামী ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি।ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই আইনি লড়াই কেবল জমি হস্তান্তরের নয়, বরং এটি রাজ্যের ‘জমি নীতি’ বনাম কেন্দ্রের ‘জাতীয় নিরাপত্তা অগ্রাধিকার’-এর লড়াই। রাজ্য যেখানে জমি হস্তান্তরের জন্য মে-জুন মাস পর্যন্ত সময় চাইছে, সেখানে আদালত ৩১ মার্চের ডেডলাইন দিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোর চাপ তৈরি করল। মাদকপাচার ও অনুপ্রবেশ রোধে এই কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ কত দ্রুত সম্পন্ন হয়, এখন সেটাই দেখার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার