ভগবানগোলা: মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা থানার কুঠিবাড়ি এলাকায় এক ভয়াবহ পারিবারিক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি ভাড়াবাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দুই নাবালিকা কন্যা ও স্ত্রীকে নৃশংসভাবে গলা কেটে খুন করার পর নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন গৃহকর্তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম মানিক বেপারী। তিনি ওই এলাকায় একটি বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন। বুধবার সকাল গড়িয়ে গেলেও বাড়ির দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। সকাল ১০টা নাগাদ জানলা দিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভগবানগোলা থানার পুলিশ। ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় মানিকবাবু, তাঁর স্ত্রী এবং দুই শিশুকন্যার রক্তাক্ত দেহ।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, বিছানায় পড়ে রয়েছে স্ত্রী ও দুই কন্যার গলাকাটা দেহ। অন্যদিকে, ঘরের সিলিং থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় মানিকের দেহ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মানিক বেপারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে তাঁর স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে খুন করেন। পরিবারের সবাইকে শেষ করে দেওয়ার পর অনুশোচনা বা মানসিক অবসাদ থেকে নিজে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত এলাকায় পৌঁছান ভগবানগোলা মহকুমার SDPO বিমান হালদার। তিনি নিজে বাড়িটি পরিদর্শন করেন এবং ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেন।
এটি নিছকই আত্মহত্যা ও খুনের ঘটনা নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো বহিরাগত বা পারিবারিক শত্রুতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার পরই স্পষ্ট হবে খুনের প্রকৃত কারণ ও সময়।
একটি সাজানো গোছানো পরিবারের এমন পরিণতিতে কুঠিবাড়ি এলাকায় শোকের পাশাপাশি চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কেন এমন চরম পথ বেছে নিলেন মানিক বেপারী, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে প্রতিবেশীদের মনে। পারিবারিক অশান্তি নাকি আর্থিক অনটন—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন