কলকাতা ও মুম্বই: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক চরম শোকাবহ ও নাটকীয় মোড়। বারামতীতে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এনসিপি নেতা তথা মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। তবে এই মৃত্যুকে নিছক ‘দুর্ঘটনা’ হিসাবে মেনে নিতে নারাজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তিনি সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
অজিত পাওয়ারের এই আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। এর পিছনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। যেমন - সম্প্রতি এনডিএ জোটঙ্গী বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করে মহারাষ্ট্রের পুরভোটে এককভাবে লড়াই করেছিলেন অজিত পাওয়ার ও তাঁর দল। রাজনৈতিক সূত্রের খবর ছিল, মতভেদ কাটিয়ে তিনি ফের শরদ পাওয়ারের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে হাত মেলাতে চলেছেন। এই পুনর্মিলনের জল্পনার মধ্যেই বারামতীতে তাঁর বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। যা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশের পাশাপাশি এই ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এই মুহূর্তে দেশের কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপর আমাদের ভরসা নেই। তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই, সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া উচিত।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি এই ঘটনার তদন্ত করলে তা নিরপেক্ষ হবে না। তাঁর মতে, যেহেতু অজিত পাওয়ার সম্প্রতি বিজেপি বিরোধী অবস্থানের দিকে যাচ্ছিলেন, তাই এই দুর্ঘটনার কারণগুলি খতিয়ে দেখতে বিচারবিভাগীয় তদন্তই একমাত্র পথ। যদিও মহারাষ্ট্র সরকার বা কেন্দ্রের তরফে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে, অজিত পাওয়ারের মতো একজন হেভিওয়েট নেতার মৃত্যুতে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন