মুম্বই: বুধবার সকালে এক ভয়াবহ বিমান বিপর্যয়ে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে ভারতের রাজনীতি। মহারাষ্ট্রের ‘দাদা’ তথা উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাচনের প্রচারে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগ দিতে বারামতীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চেনা মাটিতে পা রাখার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।
দুর্ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বিমানটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে রয়েছে মাঠজুড়ে। দাউদাউ করে জ্বলা আগুনের গ্রাস থেকে কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বারামতীর আকাশে কয়েক সেকেন্ডের যান্ত্রিক গোলযোগ কেড়ে নিল মহারাষ্ট্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাজেট বিশেষজ্ঞের প্রাণ।
লিয়ারজেট-৪৫: কেমন ছিল এই বিলাসবহুল বিমান?
অজিত পওয়ার যে বিমানে যাত্রা করছিলেন, সেটি বিশ্বের অন্যতম সেরা বিজনেস জেট হিসেবে পরিচিত। কানাডাভিত্তিক বিখ্যাত সংস্থা বোম্বার্ডিয়ার (Bombardier) এই লিয়ারজেট-৪৫ নির্মাণ করে। এটি মূলত ভিআইপি এবং কর্পোরেট যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। এই বিমানে একসঙ্গে ৮ জন যাত্রী অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন। এর কেবিনের ভেতরের সাজসজ্জা এবং আরামদায়ক আসন একে অন্য সব চার্টার বিমান থেকে আলাদা করে।
এতে দুটি শক্তিশালী টার্বোফ্যান ইঞ্জিন রয়েছে। এটি কেবল উচ্চগতির জন্যই পরিচিত নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অনেকটা সময় উড়তে সক্ষম। অত্যাধুনিক অ্যাভিওনিক্স সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও বারামতীর রানওয়েতে কেন এটি ভেঙে পড়ল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
একটি নতুন লিয়ারজেট-৪৫ বিমানের দাম প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৫ কোটি টাকার কাছাকাছি। এমনকি ব্যবহৃত বিমানের দামও ২৫ থেকে ৪৫ লক্ষ ডলারের মধ্যে থাকে। এই বিমানটি চার্টার হিসেবে ভাড়া নিতে গেলে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩,০০০ থেকে ৪,৫০০ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা) খরচ করতে হয়।
তদন্তের মুখে ‘সুরক্ষিত’ তকমা
লিয়ারজেট-৪৫ বিমানটি সাধারণত অত্যন্ত নিরাপদ হিসেবেই পরিচিত। তবে বুধবারের ঘটনায় যান্ত্রিক ত্রুটি না কি পাইলটের ভুল, তা খতিয়ে দেখতে ডিডিসিএ (DGCA) তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষ করে অবতরণের ঠিক আগে কেন বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারাল, তা জানতে ব্ল্যাক বক্সের তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক নজরে লিয়ারজেট-৪৫-এর বৈশিষ্ট্য:
ইঞ্জিন: Honeywell TFE731-20
সর্বোচ্চ গতি: ঘণ্টায় প্রায় ৮৬০ কিমি
দূরত্ব: একটানা ৩,০০০ কিমি-র বেশি ওড়ার ক্ষমতা
ব্যবহারকারী: ভিভিআইপি, বড় ব্যবসায়ী ও সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিক
মহারাষ্ট্রের প্রশাসনিক মানচিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র অজিত পওয়ারের এই ট্র্যাজিক প্রয়াণ যেমন রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি করল, তেমনই ভিভিআইপিদের আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার গভীর বিতর্কের জন্ম দিল।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন