Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ও চাকরির ঘোষণা মমতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ও চাকরির ঘোষণা মমতার

নিজস্ব প্রতিবেদন: আনন্দপুরের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সিঙ্গুরের সভা থেকে মৃতদের পরিবারের জন্য একগুচ্ছ আর্থিক সাহায্য ও চাকরির ঘোষণা করেন তিনি। তবে সরকারের এই পদক্ষেপকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে একে ‘পরিকল্পিত খুন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। অন্যদিকে দমকলমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।


সিঙ্গুরের প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আনন্দপুরের ঘটনায় রাজ্য সরকার মৃতদের পরিবারের পাশে আছে। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মোমো কোম্পানি ও ডেকরেটর্স কোম্পানি দেবে আরও ৫ লক্ষ টাকা। মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার (CV) পদে চাকরি দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনার পরেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।


আনন্দপুরের ওই গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা এখন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। উদ্ধারকাজের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, পুড়ে যাওয়া গোডাউন থেকে এখনও পর্যন্ত ৩টি পোড়া কঙ্কালসহ ১৬টি ঝলসানো দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের খাতায় এখনও নিখোঁজের সংখ্যা ২৩ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেহগুলি চেনার উপায় না থাকায় এখন ডিএনএ (DNA) ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার রাতে পুলিশ গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, জলাশয় বুজিয়ে তৈরি এই গোডাউনে কোনো অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা বা ফায়ার অডিট ছিল না।


"মৃত্যু নয়, খুন করা হয়েছে": বিস্ফোরক অধীর চৌধুরী

সরকারের ক্ষতিপূরণ ঘোষণাকে কটাক্ষ করে বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, "আনন্দপুরে যা হয়েছে তা দুর্ঘটনা নয়, ওটা খুন। গরিব মানুষের প্রাণের দাম ৫-১০ লক্ষ টাকায় নির্ধারণ করা হচ্ছে।" তাঁর প্রশ্ন, কার অনুমতিতে এমন বেআইনি কারবার চলছিল? দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন তিনি।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার নৈতিক দায় নিয়ে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পদত্যাগ দাবি করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে—আগুন লাগার ১৫ ঘণ্টা পর কেন বিদ্যুৎমন্ত্রী এবং ৩২ ঘণ্টা পর কেন দমকলমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন?

আনন্দপুরের এই অগ্নিকাণ্ড কেবল প্রাণহানিই নয়, শহরের বেআইনি গুদাম ও অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের উদাসীনতাকেও ফের বড়সড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ও চাকরির ঘোষণা মমতার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
নিজস্ব প্রতিবেদন: আনন্দপুরের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সিঙ্গুরের সভা থেকে মৃতদের পরিবারের জন্য একগুচ্ছ আর্থিক সাহায্য ও চাকরির ঘোষণা করেন তিনি। তবে সরকারের এই পদক্ষেপকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে একে ‘পরিকল্পিত খুন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। অন্যদিকে দমকলমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।সিঙ্গুরের প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আনন্দপুরের ঘটনায় রাজ্য সরকার মৃতদের পরিবারের পাশে আছে। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মোমো কোম্পানি ও ডেকরেটর্স কোম্পানি দেবে আরও ৫ লক্ষ টাকা। মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার (CV) পদে চাকরি দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনার পরেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।আনন্দপুরের ওই গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা এখন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। উদ্ধারকাজের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, পুড়ে যাওয়া গোডাউন থেকে এখনও পর্যন্ত ৩টি পোড়া কঙ্কালসহ ১৬টি ঝলসানো দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের খাতায় এখনও নিখোঁজের সংখ্যা ২৩ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেহগুলি চেনার উপায় না থাকায় এখন ডিএনএ (DNA) ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে।মঙ্গলবার রাতে পুলিশ গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, জলাশয় বুজিয়ে তৈরি এই গোডাউনে কোনো অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা বা ফায়ার অডিট ছিল না।"মৃত্যু নয়, খুন করা হয়েছে": বিস্ফোরক অধীর চৌধুরীসরকারের ক্ষতিপূরণ ঘোষণাকে কটাক্ষ করে বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, "আনন্দপুরে যা হয়েছে তা দুর্ঘটনা নয়, ওটা খুন। গরিব মানুষের প্রাণের দাম ৫-১০ লক্ষ টাকায় নির্ধারণ করা হচ্ছে।" তাঁর প্রশ্ন, কার অনুমতিতে এমন বেআইনি কারবার চলছিল? দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন তিনি।বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার নৈতিক দায় নিয়ে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পদত্যাগ দাবি করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে—আগুন লাগার ১৫ ঘণ্টা পর কেন বিদ্যুৎমন্ত্রী এবং ৩২ ঘণ্টা পর কেন দমকলমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন?আনন্দপুরের এই অগ্নিকাণ্ড কেবল প্রাণহানিই নয়, শহরের বেআইনি গুদাম ও অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের উদাসীনতাকেও ফের বড়সড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার