২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই রাজ্যে বড়সড় রেল প্রকল্পের ঝুলি উপুড় করল কেন্দ্র। বন্দে ভারত স্লিপারের পর এবার হুগলি ও বীরভূম জেলায় তিনটি নতুন রেললাইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রক। বিশেষত, রাজা রামমোহন রায়ের জন্মভূমি খানাকুলে ট্রেন পৌঁছনোর খবর আসতেই বিজেপি শিবিরে খুশির হাওয়া। ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে রেলমন্ত্রকের ছাড়পত্রের কপি শেয়ার করে প্রচারে নেমে পড়েছেন পদ্ম শিবিরের নেতারা।
কোন তিনটি নতুন রুটে মিলল ছাড়পত্র?
রেলমন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী দিনে এই তিন রুটে ছুটবে ট্রেন:
১. সিউড়ি–নালা নতুন লাইন (৭৩ কিমি): এই রেলপথটি রাজনগর ও বক্রেশ্বর ধাম হয়ে যাবে, যা বীরভূমের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল বদল আনবে।
২. আরামবাগ–খানাকুল নতুন লাইন (২৭ কিমি): দীর্ঘদিনের দাবি মেনে খানাকুলকে রেল মানচিত্রে আনা হচ্ছে।
৩. রসুলপুর–জঙ্গলপাড়া–পাল্লা রোড সংযোগ (৭৮ কিমি): রসুলপুর (মেন লাইন) থেকে পাল্লা রোড (কর্ড লাইন) পর্যন্ত এই সংযোগকারী লাইনের ‘ফাইনাল লোকেশন সার্ভে’ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে আরামবাগ থেকে খানাকুল যাওয়ার একমাত্র ভরসা সড়কপথ। বর্ষাকালে এই রাস্তায় যানজট ও জলযন্ত্রণা নিত্যদিনের সঙ্গী। নতুন ২৭ কিমি রেলপথ তৈরি হলে সেই ভোগান্তি চিরতরে ঘুচবে। অন্যদিকে, পুড়শুড়া বিধানসভার আরামবাগ-তারকেশ্বর লাইনে তকিপুর ও তালপুরের মাঝে রসুলপুর-জঙ্গলপাড়া হল্ট স্টেশনের অনুমোদন মেলায় উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা।
খানাকুল ও পুড়শুড়ার এই জোড়া সাফল্যে কৃতিত্বের দাবিদার দুই বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ ও বিমান ঘোষ। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে দেখা করে তাঁরা এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়েছিলেন। নির্বাচনের ঠিক আগে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে খানাকুল ও পুড়শুড়ার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
একদিকে তৃণমূল যখন রাজ্যজুড়ে জনমুখী প্রকল্প নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে, তখন বিজেপি ‘রেল-বিকাশ’ তাস খেলে মানুষের মন জিততে চাইছে। এখন দেখার, রেলের এই বাঁশি ভোটের ময়দানে বিজেপির পালে কতটা হাওয়া টানে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন