আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে জনপ্রিয় খাদ্যচেইন সংস্থা 'ওয়াও মোমো' (Wow! Momo)-র গুদামের ম্যানেজার এবং ডেপুটি ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ধৃতরা হলেন ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তী। শুক্রবারই তাঁদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করা হবে। ঘটনার সময় তাঁদের ভূমিকা কী ছিল এবং গুদামে অগ্নিসুরক্ষা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা জানতে পুলিশ তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে।
এর আগেই দ্বিতীয় গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর গুদাম থেকেই প্রথম আগুনের সূত্রপাত।
এই অগ্নিকাণ্ড এক মর্মান্তিক রূপ নিয়েছে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ২১টি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের হিসেবে এখনও ২৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া দেহাংশ শনাক্ত করতে ডিএনএ (DNA) ম্যাপিং শুরু হয়েছে।
ওয়াও মোমো কর্তৃপক্ষ তাদের মৃত কর্মীদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং আজীবন মাসিক বেতন দেওয়ার ঘোষণা করেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার দুপুরে গড়িয়া ঢালাই ব্রিজে পৌঁছাবেন। ঢালাই ব্রিজ থেকে কামালগাজি মোড় পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করবে বিজেপি। এরপর স্থানীয় থানায় ডেপুটেশন জমা দেওয়া হবে। গুদামে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না এবং কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অন্যদিকে, ওয়াও মোমো দাবি করেছে পাশের গুদামে বেআইনি রান্নার জেরেই এই বিপর্যয়।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন