কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস বিভাগের (পিঅ্যান্ডএআর) তরফে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি, ২০২৬) জারি করা চারটি পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ আইএএস অফিসারের দায়িত্ব রদবদল করা হয়েছে । লোকসভা ভোটের আগে এই রদবদলকে প্রশাসনিকস্তরে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নবান্ন সূত্রে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের চারজন শীর্ষ আমলার কর্মভার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে । বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে জনপরিষেবা আরও সক্রিয় করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে ।
আমলাদের নতুন দায়িত্ব এক নজরে:
ড. কৃষ্ণ গুপ্ত (আইএস: ১৯৯১): বর্তমানে কো-অপারেশন বা সমবায় দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব হিসাবে কর্মরত ড. গুপ্তকে সেচ ও জলপথ দফতরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।
মণীশ জৈন (আইএস: ১৯৯৪): তিনি সেচ ও জলপথ দফতর এবং জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে বন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদে নিযুক্ত হলেন ।
শ্রী বিনোদ কুমার (আইএস: ১৯৯৬): স্কুলশিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের পাশাপাশি তিনি এখন থেকে জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলাবেন ।
শ্রী সঞ্জয় বনশল (আইএস: ২০০৪): অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের সচিব হিসাবে কাজ করার পাশাপাশি তাঁকে জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দফতর এবং এডিএমআই প্রকল্পের অধিকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।
আসন্ন নির্বাচনের নিরিখে এই প্রশাসনিক রদবদলের গুরুত্ব:
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। আর এই সন্ধিক্ষণেই চারজন অভিজ্ঞ আমলার দায়িত্ব বদলের নেপথ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসছে। যেমন -
১. জল ও কৃষি প্রকল্পের গুরুত্ব: গরমের সময় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে সেচ ও পানীয় জলের সমস্যা রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় । ড. কৃষ্ণ গুপ্ত এবং সঞ্জয় বনশলকে সেচ ও জলসম্পদ দফতরের দায়িত্ব দিয়ে সরকার সম্ভবত গ্রামীণ এলাকায় সেচের কাজ দ্রুত শেষ করতে চাইছে।
২. অনগ্রসর শ্রেণির মন জয়: সঞ্জয় বনশল অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের সচিব । নির্বাচনের আগে এই দফতরের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের উন্নয়নের খতিয়ান ভোটারদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে।
৩. শিক্ষা ও জনশিক্ষায় নজর: বিনোদ কুমারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি পাঠাগার ও জনশিক্ষা প্রসারে সরকারের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা স্পষ্ট । বুথ স্তরে তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য এই দপ্তরগুলো অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
৪. প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি: নির্বাচনের ঠিক আগে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এবং প্রকল্পগুলির কাজ যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে না থাকে, সম্ভবত সেই কারণেই অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদমর্যাদার অফিসারদের হাতে একাধিক দফতরের ভার তুলে দেওয়া হয়েছে ।
সব মিলিয়ে মনে করা হচ্ছে, ৩০ জানুয়ারির এই রদবদলই স্পষ্ট করে দিল, নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই প্রশাসনিক কাঠামোকে নিশ্ছিদ্র করতে চাইছে রাজ্য প্রশাসন। যাতে ভোট বৈতরণী পার করা সহজ হয়! যদিও প্রশাসনিকস্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধরনের পদক্ষেপকে রুটিন বদলি বলেই দাবি করা হয়।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন