ফ্রেজারগঞ্জ: দীর্ঘ তিনমাসের উৎকণ্ঠা আর প্রতীক্ষার অবসান। বাংলাদেশের জেল থেকে মুক্তি পেয়ে অবশেষে 'ঘরের ছেলেরা ঘরে ফিরলেন'। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি, ২০২৬) দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দরে ১৪ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীকে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজনেরা, মৎস্যবন্দর চত্বরে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা! দেশে ফেরেন আরও ন'জন ভিনরাজ্যের মৎস্যজীবীও।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও মৎস্যজীবী সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের ১৩ অক্টোবর ‘এফবি শুভযাত্রা’ নামক একটি ট্রলারে চড়ে কুলতলী থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন ১৪ জন মৎস্যজীবী। ১৯ অক্টোবর মাঝ সমুদ্রে হঠাৎই ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রলারটি ভাসতে ভাসতে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে পড়ে। অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁদের আটক করে বাংলাদেশের নৌবাহিনী। এরপর বাগেরহাট জেলা আদালতের নির্দেশে তাঁদের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়।
ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনার পর শুক্রবার দুই দেশের জলসীমায় উপকূলরক্ষীবাহিনীর উপস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের বিনিময় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ভারত ফিরে পায় মোট ২৩ জন মৎস্যজীবীকে (এফবি শুভযাত্রা ছাড়াও অন্যান্য ট্রলারে সওয়ার পূর্বে আটক মৎস্যজীবীরা-সহ)। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ফিরে পায় তাদের ১১৫ জন মৎস্যজীবীকে। ভারতে ফিরে আসা এই ২৩ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীর মধ্যে ১৪ জন পশ্চিমবঙ্গ (কাকদ্বীপ, কুলতলী ও হুগলি)-এর বাসিন্দা এবং বাকি ৯ জন অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা।
এদিন ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্যবন্দরে কাকদ্বীপের মহকুমা শাসক প্রীতম সাহা, পুলিশ ও উপকূলরক্ষীবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তিনমাস পর বিদেশের মাটি থেকে নিজের দেশে ফিরতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মৎস্যজীবীরাও। তাঁরা জানান, মাঝসমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ার পর তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। ঘরে ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তাঁরা ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন