জলপাইগুড়ি: বিডিও অফিসে কাজে যাওয়ার পথে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনার বলি হলেন এক সরকারি কর্মী। শনিবার সকালে জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি জাতীয় সড়কের দশ দরগা এলাকায় একটি বেপরোয়া ডাম্পার পিছন থেকে স্কুটারে ধাক্কা মারলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শম্পা রায় নামে এক কর্মীর। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর সহকর্মী পায়েল মোহন্ত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শম্পা রায় ও আহত পায়েল মোহন্ত - দুজনই ময়নাগুড়ি বিডিও অফিসে এসআইআর প্রকল্পের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসাবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো এদিন সকালেও তাঁরা একটি স্কুটারে চড়ে অফিসে যাচ্ছিলেন। পায়েল স্কুটার চালাচ্ছিলেন এবং শম্পা পিছনে বসেছিলেন।
দশ দরগা সংলগ্ন বটতলা এলাকায় একটি দ্রুতগামী ডাম্পার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের স্কুটির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার অভিঘাতে দুজনই রাস্তা ছিটকে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা শম্পা রায়কে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সূত্রের খবর, পায়েল মোহন্তর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরও জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ডাম্পারটি দুর্ঘটনার পরই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। পুলিশ ডাম্পারটির সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘাতক যানটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, দুই সহকর্মীর এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় ময়নাগুড়ি বিডিও অফিস ও প্রশাসনিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মীদের কথায়, দুজনই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এসআইআর-এর শুনানিকেন্দ্রের কাজ সামলাচ্ছিলেন। বিডিও অফিসের এক কর্মী জানান, "পায়েলদি স্কুটার চালাচ্ছিলেন, শম্পা পিছনে ছিলেন। পিছন থেকে ডাম্পার এসে সব শেষ করে দিল। আমরা একজন দক্ষ সহকর্মীকে হারালাম।"
পুলিশ ঘাতক ডাম্পার ও তার চালকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন