Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

কিশোরগঞ্জে ভোটের লড়াই: হিন্দু ও আওয়ামী লীগের ভোট টানতে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত

সংবাদদাতা, ঢাকা
সংবাদদাতা, ঢাকা
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কিশোরগঞ্জে ভোটের লড়াই: হিন্দু ও আওয়ামী লীগের ভোট টানতে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত

বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। ৫ অগস্টের পট পরিবর্তনের পর এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরাসরি অংশ না নিলেও, তাদের সমর্থক এবং বিশেষ করে হিন্দু সংখ্যালঘু ভোটাররা কোন দিকে ঝুঁকবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র দড়িটানাটানি। একদিকে বিএনপি, অন্যদিকে জামায়াত-এ-ইসলামী—উভয় পক্ষই এখন এই বড় ভোটব্যাঙ্কটি কবজায় আনতে মরিয়া।


নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিএনপি প্রার্থী ফজলুর রহমানের অভিযোগ, যৌথ বাহিনী হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর অপ্রয়োজনীয় হয়রানি চালাচ্ছে। সম্প্রতি ধানপুর ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম থেকে বেশ কয়েকজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা নিয়ে ওই এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির দাবি, এটি ভোটারদের ভয় দেখানোর একটি কৌশল।


আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই আসনে জামায়াত প্রার্থী রোকন রেজা শেখ নিজেকে হিন্দুদের 'রক্ষাকর্তা' হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। গত কয়েকদিন ধরে তিনি বিভিন্ন হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন এবং অভয় দিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং হিন্দু ভোটাররা যদি শেষ পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে যান, তবে নিরাপত্তার নিরিখে তারা বিএনপি বা জামায়াতের মধ্যে যেকোনো একটি পক্ষকে কৌশলগতভাবে বেছে নিতে পারেন।


আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভোট বর্জনের ডাক দিলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্রটা আলাদা। মনে করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সমর্থকরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং এলাকায় প্রভাব বজায় রাখতে তলে তলে কোনো একটি পক্ষকে সমর্থন দিতে পারেন। জাতীয় স্তরেও জামায়াত এবার বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চাইছে। অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা বলছে, তারা এককভাবে অনেক আসনে জয়ের সম্ভাবনা দেখছে এবং তার জন্য আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট তাদের কাছে অত্যন্ত জরুরি।


প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবল স্থানীয় রাজনীতি নয়, জামায়াতের প্রতি ভারত ও আমেরিকার মতো বিদেশি শক্তিগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো এবং মার্কিন কূটনীতিবিদদের মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, জামায়াতকে এখন একটি 'বৈধ রাজনৈতিক শক্তি' হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের লড়াই এখন আর কেবল জয়-পরাজয়ের নয়, বরং এটি ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগের ভোট কোন দিকে মোড় নেয়, তার এক বড় অ্যাসিড টেস্ট।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


কিশোরগঞ্জে ভোটের লড়াই: হিন্দু ও আওয়ামী লীগের ভোট টানতে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত

প্রকাশের তারিখ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। ৫ অগস্টের পট পরিবর্তনের পর এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরাসরি অংশ না নিলেও, তাদের সমর্থক এবং বিশেষ করে হিন্দু সংখ্যালঘু ভোটাররা কোন দিকে ঝুঁকবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র দড়িটানাটানি। একদিকে বিএনপি, অন্যদিকে জামায়াত-এ-ইসলামী—উভয় পক্ষই এখন এই বড় ভোটব্যাঙ্কটি কবজায় আনতে মরিয়া।নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিএনপি প্রার্থী ফজলুর রহমানের অভিযোগ, যৌথ বাহিনী হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর অপ্রয়োজনীয় হয়রানি চালাচ্ছে। সম্প্রতি ধানপুর ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম থেকে বেশ কয়েকজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা নিয়ে ওই এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির দাবি, এটি ভোটারদের ভয় দেখানোর একটি কৌশল।আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই আসনে জামায়াত প্রার্থী রোকন রেজা শেখ নিজেকে হিন্দুদের 'রক্ষাকর্তা' হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। গত কয়েকদিন ধরে তিনি বিভিন্ন হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন এবং অভয় দিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং হিন্দু ভোটাররা যদি শেষ পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে যান, তবে নিরাপত্তার নিরিখে তারা বিএনপি বা জামায়াতের মধ্যে যেকোনো একটি পক্ষকে কৌশলগতভাবে বেছে নিতে পারেন।আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভোট বর্জনের ডাক দিলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্রটা আলাদা। মনে করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সমর্থকরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং এলাকায় প্রভাব বজায় রাখতে তলে তলে কোনো একটি পক্ষকে সমর্থন দিতে পারেন। জাতীয় স্তরেও জামায়াত এবার বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চাইছে। অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা বলছে, তারা এককভাবে অনেক আসনে জয়ের সম্ভাবনা দেখছে এবং তার জন্য আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট তাদের কাছে অত্যন্ত জরুরি।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবল স্থানীয় রাজনীতি নয়, জামায়াতের প্রতি ভারত ও আমেরিকার মতো বিদেশি শক্তিগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো এবং মার্কিন কূটনীতিবিদদের মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, জামায়াতকে এখন একটি 'বৈধ রাজনৈতিক শক্তি' হিসেবে দেখা হচ্ছে।কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের লড়াই এখন আর কেবল জয়-পরাজয়ের নয়, বরং এটি ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগের ভোট কোন দিকে মোড় নেয়, তার এক বড় অ্যাসিড টেস্ট।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার