Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

বঞ্চনার অবসান: সুপ্রিম কোর্টে মমতার সরকারের চরম পরাজয়, জয়ী বাংলার সংগ্রামী সরকারি কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বঞ্চনার অবসান: সুপ্রিম কোর্টে মমতার সরকারের চরম পরাজয়, জয়ী বাংলার সংগ্রামী সরকারি কর্মীরা

কলকাতা: দীর্ঘ টালবাহানা, রাজ্য সরকারের একগুঁয়েমি আর একের পর এক আইনি প্যাঁচকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে অবশেষে জয় হল সত্যের। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা (DA) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের মুখে এক সজোরে চপেটাঘাত! সুকান্ত মজুমদার থেকে শুরু করে গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব এই জয়কে 'ন্যায়বিচারের জয়' বলে অভিহিত করেছেন।


সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মহার্ঘ্যভাতা বা ডিএ কোনও দয়া বা দান নয়। এটি সরকারি কর্মচারীদের বিধিবদ্ধ এবং আইনসংগত অধিকার। রাজ্য সরকার বারবার আদালতে আর্থিক সঙ্কটের দোহাই দিলেও, আদালত তা গ্রাহ্য করেনি। বরং রোপা (ROPA) ২০০৯-এর নিয়ম মেনে অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) অনুযায়ী বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বকেয়া মেটানোর তদারকির জন্য বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।


শিক্ষা মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এই রায়ের পর রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছেন, তা নজিরবিহীন। তিনি বলেন, "ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মানুষের করের টাকা খরচ করে নামীদামি উকিল লাগিয়েছিলেন কর্মচারীদের প্রাপ্য রুখতে। মেলা-খেলা-কার্নিভালের টাকা থাকলেও রাজ্যের শিরদাঁড়া এই কর্মচারীদের জন্য সরকারের ভাঁড়ার শূন্য হয়ে যায়। আজ সুপ্রিম কোর্ট প্রমাণ করে দিল যে সরকার আইনের ঊর্ধ্বে নয়।"


রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দীর্ঘ আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারী কর্মীদের ওপর পুলিশের মাধ্যমে হেনস্থা চালানো হয়েছিল। এমনকী, আন্দোলনকারীদের 'ঘেউ ঘেউ' বা 'চোর' বলে অপমানজনক মন্তব্য করতেও ছাড়েননি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সুকান্ত মজুমদার তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, এই জয় কেবল টাকার লড়াই নয়, এটি সম্মানের লড়াই। পুলিশের লাঠি বা শাসকের রক্তচক্ষু যে সংগ্রামী কর্মীদের সঙ্কল্প টলাতে পারেনি, আজকের রায় তার সবথেকে বড় প্রমাণ।


বিজেপিপন্থী রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রায়ের ফলে রাজ্য সরকারের ‘আর্থিক দেউলিয়াপনা’ জনসমক্ষে চলে এসেছে। একদিকে রাজ্য সরকার উন্নয়নের খতিয়ান দিচ্ছে, অন্যদিকে নিজের কর্মীদের ন্যায্য পাওনা দিতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দৌড়েও হেরে ফিরছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশাল পরিমাণ বকেয়া মেটাতে গিয়ে এখন হিমশিম খেতে হবে মমতা প্রশাসনকে, যা তাদের ভুল নীতিরই ফল।


সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের দীর্ঘ লড়াই আর সুপ্রিম কোর্টের এই রক্ষাকবচ বাংলার প্রশাসনিক স্তরে এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সুকান্ত মজুমদার এই ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং এই লড়াইয়ে তাঁদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


বঞ্চনার অবসান: সুপ্রিম কোর্টে মমতার সরকারের চরম পরাজয়, জয়ী বাংলার সংগ্রামী সরকারি কর্মীরা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
কলকাতা: দীর্ঘ টালবাহানা, রাজ্য সরকারের একগুঁয়েমি আর একের পর এক আইনি প্যাঁচকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে অবশেষে জয় হল সত্যের। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা (DA) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের মুখে এক সজোরে চপেটাঘাত! সুকান্ত মজুমদার থেকে শুরু করে গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব এই জয়কে 'ন্যায়বিচারের জয়' বলে অভিহিত করেছেন।সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মহার্ঘ্যভাতা বা ডিএ কোনও দয়া বা দান নয়। এটি সরকারি কর্মচারীদের বিধিবদ্ধ এবং আইনসংগত অধিকার। রাজ্য সরকার বারবার আদালতে আর্থিক সঙ্কটের দোহাই দিলেও, আদালত তা গ্রাহ্য করেনি। বরং রোপা (ROPA) ২০০৯-এর নিয়ম মেনে অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) অনুযায়ী বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বকেয়া মেটানোর তদারকির জন্য বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।শিক্ষা মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এই রায়ের পর রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছেন, তা নজিরবিহীন। তিনি বলেন, "ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মানুষের করের টাকা খরচ করে নামীদামি উকিল লাগিয়েছিলেন কর্মচারীদের প্রাপ্য রুখতে। মেলা-খেলা-কার্নিভালের টাকা থাকলেও রাজ্যের শিরদাঁড়া এই কর্মচারীদের জন্য সরকারের ভাঁড়ার শূন্য হয়ে যায়। আজ সুপ্রিম কোর্ট প্রমাণ করে দিল যে সরকার আইনের ঊর্ধ্বে নয়।"রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দীর্ঘ আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারী কর্মীদের ওপর পুলিশের মাধ্যমে হেনস্থা চালানো হয়েছিল। এমনকী, আন্দোলনকারীদের 'ঘেউ ঘেউ' বা 'চোর' বলে অপমানজনক মন্তব্য করতেও ছাড়েননি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সুকান্ত মজুমদার তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, এই জয় কেবল টাকার লড়াই নয়, এটি সম্মানের লড়াই। পুলিশের লাঠি বা শাসকের রক্তচক্ষু যে সংগ্রামী কর্মীদের সঙ্কল্প টলাতে পারেনি, আজকের রায় তার সবথেকে বড় প্রমাণ।বিজেপিপন্থী রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রায়ের ফলে রাজ্য সরকারের ‘আর্থিক দেউলিয়াপনা’ জনসমক্ষে চলে এসেছে। একদিকে রাজ্য সরকার উন্নয়নের খতিয়ান দিচ্ছে, অন্যদিকে নিজের কর্মীদের ন্যায্য পাওনা দিতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দৌড়েও হেরে ফিরছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশাল পরিমাণ বকেয়া মেটাতে গিয়ে এখন হিমশিম খেতে হবে মমতা প্রশাসনকে, যা তাদের ভুল নীতিরই ফল।সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের দীর্ঘ লড়াই আর সুপ্রিম কোর্টের এই রক্ষাকবচ বাংলার প্রশাসনিক স্তরে এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সুকান্ত মজুমদার এই ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং এই লড়াইয়ে তাঁদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার