Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

গালওয়ান সংঘর্ষের পর গোপনে পরমাণু পরীক্ষা? বিস্ফোরক দাবি আমেরিকার, চাপে চিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গালওয়ান সংঘর্ষের পর গোপনে পরমাণু পরীক্ষা? বিস্ফোরক দাবি আমেরিকার, চাপে চিন

কলকাতা: ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত–চিন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কয়েক দিনের মধ্যেই চিন গোপনে পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালিয়েছিল—এমনই বিস্ফোরক দাবি সামনে আনল আমেরিকা। এই দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।


মার্কিন বিদেশ দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি Thomas DiNanno জেনেভায় অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে জানান, বিশ্বের নজর এড়িয়ে চিন যে পরমাণু পরীক্ষা চালাতে পারে, সেই গোয়েন্দা তথ্য আগেই ওয়াশিংটনের হাতে ছিল। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২২ জুন ২০২০ চিন এই পরমাণু পরীক্ষাটি চালায়।

ডিনান্নো পরে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, ভূকম্পন আড়াল করার কৌশল ব্যবহার করে চিন এই পরীক্ষা চালিয়েছে বলে আমেরিকার কাছে তথ্য রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।


গালওয়ান, শহিদ ২০ জওয়ান, চিনের নীরবতা

২০২০ সালের জুন মাসে Galwan Valley-তে ভারত ও চিনের সেনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন জওয়ান শহিদ হন। চিনের পক্ষেও বেশ কয়েকজন সেনার মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়, তবে Xi Jinping-এর দেশ আজও আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। দীর্ঘ আলোচনা ও সামরিক–কূটনৈতিক বৈঠকের পর ২০২৪ সালে গিয়ে সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতাবস্থা ফেরে।


লপ নুরে পরমাণু পরীক্ষা?

আমেরিকার আরও দাবি, চিন এই পরমাণু পরীক্ষা চালিয়েছিল Lop Nur এলাকায়। ভারতের সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটি চিনের Xinjiang প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই পরীক্ষায় ‘ডিকাপলিং’ নামে একটি বিশেষ কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল।

ডিকাপলিং এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে মাটির গভীরে বিস্ফোরণ ঘটিয়েও তার ভূকম্পন অনেকটাই দমন করা সম্ভব। বড় গহ্বরে বিস্ফোরণ ঘটলেও যাতে কম্পন বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে বা আন্তর্জাতিক নজর এড়িয়ে যাওয়া যায়, সেটাই এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য।

গালওয়ানের সঙ্গে যোগসূত্র?

যদিও আমেরিকা সরাসরি এমন দাবি করেনি যে গালওয়ান সংঘর্ষের প্রতিক্রিয়াতেই চিন এই পরমাণু পরীক্ষা চালায়। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সেই সময় ভারত–চিন সংঘাত চরমে পৌঁছেছিল। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর দুই দেশই ব্যাপক সেনা ও অস্ত্র মোতায়েন করেছিল।

অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞদের আর এক অংশের মতে, সংঘর্ষের ঠিক পরপরই পরমাণু পরীক্ষার মতো জটিল কাজ বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। এর জন্য বহু মাস, এমনকি বছরের পর বছর প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। তাঁদের মতে, চিন এই পরীক্ষার পরিকল্পনা অনেক আগেই করে রেখেছিল। গালওয়ান সংঘর্ষ হয়তো আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরানোর কৌশল ছিল মাত্র।


সব মিলিয়ে, আমেরিকার এই দাবিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ল চিনের পরমাণু নীতি ও স্বচ্ছতা। দক্ষিণ এশিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এই তথ্য কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে বিশ্ব।

বিষয় : India Chaina

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


গালওয়ান সংঘর্ষের পর গোপনে পরমাণু পরীক্ষা? বিস্ফোরক দাবি আমেরিকার, চাপে চিন

প্রকাশের তারিখ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
কলকাতা: ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত–চিন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কয়েক দিনের মধ্যেই চিন গোপনে পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালিয়েছিল—এমনই বিস্ফোরক দাবি সামনে আনল আমেরিকা। এই দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।মার্কিন বিদেশ দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি Thomas DiNanno জেনেভায় অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে জানান, বিশ্বের নজর এড়িয়ে চিন যে পরমাণু পরীক্ষা চালাতে পারে, সেই গোয়েন্দা তথ্য আগেই ওয়াশিংটনের হাতে ছিল। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২২ জুন ২০২০ চিন এই পরমাণু পরীক্ষাটি চালায়।ডিনান্নো পরে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, ভূকম্পন আড়াল করার কৌশল ব্যবহার করে চিন এই পরীক্ষা চালিয়েছে বলে আমেরিকার কাছে তথ্য রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।গালওয়ান, শহিদ ২০ জওয়ান, চিনের নীরবতা২০২০ সালের জুন মাসে Galwan Valley-তে ভারত ও চিনের সেনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন জওয়ান শহিদ হন। চিনের পক্ষেও বেশ কয়েকজন সেনার মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়, তবে Xi Jinping-এর দেশ আজও আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। দীর্ঘ আলোচনা ও সামরিক–কূটনৈতিক বৈঠকের পর ২০২৪ সালে গিয়ে সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতাবস্থা ফেরে।লপ নুরে পরমাণু পরীক্ষা?আমেরিকার আরও দাবি, চিন এই পরমাণু পরীক্ষা চালিয়েছিল Lop Nur এলাকায়। ভারতের সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটি চিনের Xinjiang প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই পরীক্ষায় ‘ডিকাপলিং’ নামে একটি বিশেষ কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল।ডিকাপলিং এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে মাটির গভীরে বিস্ফোরণ ঘটিয়েও তার ভূকম্পন অনেকটাই দমন করা সম্ভব। বড় গহ্বরে বিস্ফোরণ ঘটলেও যাতে কম্পন বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে বা আন্তর্জাতিক নজর এড়িয়ে যাওয়া যায়, সেটাই এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য।গালওয়ানের সঙ্গে যোগসূত্র?যদিও আমেরিকা সরাসরি এমন দাবি করেনি যে গালওয়ান সংঘর্ষের প্রতিক্রিয়াতেই চিন এই পরমাণু পরীক্ষা চালায়। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সেই সময় ভারত–চিন সংঘাত চরমে পৌঁছেছিল। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর দুই দেশই ব্যাপক সেনা ও অস্ত্র মোতায়েন করেছিল।অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞদের আর এক অংশের মতে, সংঘর্ষের ঠিক পরপরই পরমাণু পরীক্ষার মতো জটিল কাজ বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। এর জন্য বহু মাস, এমনকি বছরের পর বছর প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। তাঁদের মতে, চিন এই পরীক্ষার পরিকল্পনা অনেক আগেই করে রেখেছিল। গালওয়ান সংঘর্ষ হয়তো আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরানোর কৌশল ছিল মাত্র।সব মিলিয়ে, আমেরিকার এই দাবিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ল চিনের পরমাণু নীতি ও স্বচ্ছতা। দক্ষিণ এশিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এই তথ্য কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে বিশ্ব।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার