Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

বকেয়া ৫০০০ কোটি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দিয়ে ইউনূস সরকারকে ফের চিঠি আদানির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বকেয়া ৫০০০ কোটি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দিয়ে ইউনূস সরকারকে ফের চিঠি আদানির

নিজস্ব প্রতিনিধি: ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং তার বকেয়া মেটানো নিয়ে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের টানাপড়েন চরম আকার ধারণ করল। বকেয়া বিল দ্রুত মেটানোর দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) ফের কড়া চিঠি দিয়েছে আদানি পাওয়ার। সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিপুল অঙ্কের এই পাওনা না মেটালে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে গৌতম আদানির সংস্থা।


আদানি পাওয়ারের ভাইস প্রেসিডেন্ট অবিনাশ অনুরাগের পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৫৭ কোটি ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা)। এর মধ্যে ৩০ কোটি ডলার নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, যা দ্রুত মেটানোর দাবি জানানো হয়েছে। কয়লা আমদানির খরচ মেটাতে অন্তত ১১ কোটি ২৭ লক্ষ ডলার তৎক্ষণাৎ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।


প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের সময় বকেয়া ছিল প্রায় ৭০ কোটি ডলার। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত বিল পরিশোধ করায় বকেয়া কিছুটা কমেছিল। কিন্তু গত দুই মাস ধরে পিডিবি পুনরায় অর্থপ্রদান কমিয়ে দেওয়ায় সংকট গভীর হয়েছে। পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানিয়েছেন, রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় বকেয়া মেটাতে সমস্যা হচ্ছে, তবে মার্চ থেকে পেমেন্টের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।


২০১৭ সালে ২৫ বছরের জন্য ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের যে চুক্তি হয়েছিল, তা নিয়ে বাংলাদেশে বর্তমানে তীব্র বিতর্ক চলছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিটি আদানি-চুক্তিকে ‘নিকৃষ্টতম’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশের বছরে ৫-৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ক্ষতি হচ্ছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে আদানি পাওয়ার বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। আদানি গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা রিভিউ কমিটির কোনো রিপোর্ট হাতে পায়নি এবং পাওনা থাকা সত্ত্বেও এখনো বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করেনি।


পুরো বকেয়া মেটানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি বা ‘পেমেন্ট শিডিউল’ দাবি করেছে আদানি গোষ্ঠী। এই বিরোধের মীমাংসা না হলে ওপার বাংলায় বিদ্যুৎ সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিষয় : Adani Yunus Bangladesh Crisis

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


বকেয়া ৫০০০ কোটি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দিয়ে ইউনূস সরকারকে ফের চিঠি আদানির

প্রকাশের তারিখ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
নিজস্ব প্রতিনিধি: ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং তার বকেয়া মেটানো নিয়ে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের টানাপড়েন চরম আকার ধারণ করল। বকেয়া বিল দ্রুত মেটানোর দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) ফের কড়া চিঠি দিয়েছে আদানি পাওয়ার। সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিপুল অঙ্কের এই পাওনা না মেটালে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে গৌতম আদানির সংস্থা।আদানি পাওয়ারের ভাইস প্রেসিডেন্ট অবিনাশ অনুরাগের পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৫৭ কোটি ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা)। এর মধ্যে ৩০ কোটি ডলার নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, যা দ্রুত মেটানোর দাবি জানানো হয়েছে। কয়লা আমদানির খরচ মেটাতে অন্তত ১১ কোটি ২৭ লক্ষ ডলার তৎক্ষণাৎ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের সময় বকেয়া ছিল প্রায় ৭০ কোটি ডলার। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত বিল পরিশোধ করায় বকেয়া কিছুটা কমেছিল। কিন্তু গত দুই মাস ধরে পিডিবি পুনরায় অর্থপ্রদান কমিয়ে দেওয়ায় সংকট গভীর হয়েছে। পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানিয়েছেন, রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় বকেয়া মেটাতে সমস্যা হচ্ছে, তবে মার্চ থেকে পেমেন্টের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।২০১৭ সালে ২৫ বছরের জন্য ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের যে চুক্তি হয়েছিল, তা নিয়ে বাংলাদেশে বর্তমানে তীব্র বিতর্ক চলছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিটি আদানি-চুক্তিকে ‘নিকৃষ্টতম’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশের বছরে ৫-৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ক্ষতি হচ্ছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে আদানি পাওয়ার বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। আদানি গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা রিভিউ কমিটির কোনো রিপোর্ট হাতে পায়নি এবং পাওনা থাকা সত্ত্বেও এখনো বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করেনি।পুরো বকেয়া মেটানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি বা ‘পেমেন্ট শিডিউল’ দাবি করেছে আদানি গোষ্ঠী। এই বিরোধের মীমাংসা না হলে ওপার বাংলায় বিদ্যুৎ সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার