Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

পুড়ছে শরীর, নিভছে আশা: নিজের বাড়িতেই কি 'পর' হলেন বৃদ্ধ নিখিলবাবু? রহস্যের আবহে হাওড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পুড়ছে শরীর, নিভছে আশা: নিজের বাড়িতেই কি 'পর' হলেন বৃদ্ধ নিখিলবাবু? রহস্যের আবহে হাওড়া
ছবি: সংগৃহীত

হাওড়া: ভরদুপুর। আচমকাই নিস্তব্ধতা ভেঙে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকারে কেঁপে উঠল মধ্য হাওড়ার মধুসূদন বিশ্বাস লেন। ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন এক বৃদ্ধ, যাঁর শরীরের সিংহভাগ তখন আগুনের লেলিহান শিখায় ঝলসে গেছে। এই বীভৎস দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন প্রতিবেশীরা। সাহায্যের জন্য তাঁরা ছুটে গেলেও, যে প্রশ্নটি এখন এলাকায় ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো— এই আগুনের উৎস কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি দীর্ঘদিনের জমে থাকা পারিবারিক তিক্ততার চরম পরিণতি?


আহত বৃদ্ধের নাম নিখিল রঞ্জন বসু (৬১)। রেলের অবসরপ্রাপ্ত এই টিকিট পরীক্ষকের জীবন সায়াহ্নে এসে এমন পরিণতি হবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি পরিচিতরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িতে স্ত্রী সুমিতা বসু এবং বেকার ছেলে অনিলাভ রঞ্জন বসুর সঙ্গে থাকতেন তিনি। কিন্তু অবসরের পর শান্তি মেলেনি। প্রতিবেশীদের দাবি, টাকার জন্য মাঝেমধ্যেই বৃদ্ধ নিখিলবাবুর ওপর চলত অকথ্য মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার।

রবিবার সকালেও ওই বাড়ি থেকে চিৎকার ও মারধরের আওয়াজ পেয়েছিলেন পাড়া-পড়শিরা। এরপর দুপুর একটা নাগাদ অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নিখিলবাবুকে বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী বাড়িতে উপস্থিত থাকলেও তিনি কেন প্রতিবেশীদের ডাকেননি বা স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে গভীর রহস্য।

নিখিলবাবুর শরীরের প্রায় ৬৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। প্রতিবেশীরাই তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাওড়া ময়দানের রেলওয়ে অর্থপেডিক হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে শিয়ালদহের বি আর সিং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।

"আমরা প্রায়ই ওঁকে মারধর করার আওয়াজ পেতাম। টাকার জন্য নিজের স্ত্রী-সন্তান এভাবে একজন মানুষের ওপর জুলুম করতে পারে, ভাবলেই অবাক লাগে।" — জনৈক প্রতিবেশী

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হাওড়া থানার পুলিশ। বাড়িটি আপাতত সিল করে দেওয়া হয়েছে। এটি আত্মহত্যার চেষ্টা নাকি খুনের চক্রান্ত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁর জবানবন্দি নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।


এক জীবনে রেলের হাজারো যাত্রীর টিকিট পরীক্ষা করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া মানুষটি আজ নিজেই জীবনের শেষ স্টেশনে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন। তবে এই লড়াইয়ের নেপথ্যে থাকা নিষ্ঠুরতার বিচার কি তিনি পাবেন? সেই উত্তরই এখন খুঁজছে হাওড়াবাসী।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : পশ্চিমবঙ্গ

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


পুড়ছে শরীর, নিভছে আশা: নিজের বাড়িতেই কি 'পর' হলেন বৃদ্ধ নিখিলবাবু? রহস্যের আবহে হাওড়া

প্রকাশের তারিখ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
হাওড়া: ভরদুপুর। আচমকাই নিস্তব্ধতা ভেঙে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকারে কেঁপে উঠল মধ্য হাওড়ার মধুসূদন বিশ্বাস লেন। ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন এক বৃদ্ধ, যাঁর শরীরের সিংহভাগ তখন আগুনের লেলিহান শিখায় ঝলসে গেছে। এই বীভৎস দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন প্রতিবেশীরা। সাহায্যের জন্য তাঁরা ছুটে গেলেও, যে প্রশ্নটি এখন এলাকায় ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো— এই আগুনের উৎস কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি দীর্ঘদিনের জমে থাকা পারিবারিক তিক্ততার চরম পরিণতি?আহত বৃদ্ধের নাম নিখিল রঞ্জন বসু (৬১)। রেলের অবসরপ্রাপ্ত এই টিকিট পরীক্ষকের জীবন সায়াহ্নে এসে এমন পরিণতি হবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি পরিচিতরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িতে স্ত্রী সুমিতা বসু এবং বেকার ছেলে অনিলাভ রঞ্জন বসুর সঙ্গে থাকতেন তিনি। কিন্তু অবসরের পর শান্তি মেলেনি। প্রতিবেশীদের দাবি, টাকার জন্য মাঝেমধ্যেই বৃদ্ধ নিখিলবাবুর ওপর চলত অকথ্য মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার।রবিবার সকালেও ওই বাড়ি থেকে চিৎকার ও মারধরের আওয়াজ পেয়েছিলেন পাড়া-পড়শিরা। এরপর দুপুর একটা নাগাদ অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নিখিলবাবুকে বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী বাড়িতে উপস্থিত থাকলেও তিনি কেন প্রতিবেশীদের ডাকেননি বা স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে গভীর রহস্য।নিখিলবাবুর শরীরের প্রায় ৬৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। প্রতিবেশীরাই তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাওড়া ময়দানের রেলওয়ে অর্থপেডিক হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে শিয়ালদহের বি আর সিং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।"আমরা প্রায়ই ওঁকে মারধর করার আওয়াজ পেতাম। টাকার জন্য নিজের স্ত্রী-সন্তান এভাবে একজন মানুষের ওপর জুলুম করতে পারে, ভাবলেই অবাক লাগে।" — জনৈক প্রতিবেশীখবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হাওড়া থানার পুলিশ। বাড়িটি আপাতত সিল করে দেওয়া হয়েছে। এটি আত্মহত্যার চেষ্টা নাকি খুনের চক্রান্ত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁর জবানবন্দি নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।এক জীবনে রেলের হাজারো যাত্রীর টিকিট পরীক্ষা করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া মানুষটি আজ নিজেই জীবনের শেষ স্টেশনে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন। তবে এই লড়াইয়ের নেপথ্যে থাকা নিষ্ঠুরতার বিচার কি তিনি পাবেন? সেই উত্তরই এখন খুঁজছে হাওড়াবাসী।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার