হাওড়া : ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) ইস্যুতে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। শনিবার সন্ধ্যায় হাওড়া সদর বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, এসআইআর-এর ফলে ভুয়ো ভোটার বাদ যাওয়ার ভয়েই মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
রুদ্রনীল ঘোষের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী রয়েছে, যাদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করে তৃণমূল। তিনি বলেন,"মৃত ব্যক্তি এবং অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্যই এই বিশুদ্ধ সংশোধনী প্রক্রিয়া। ভারতবর্ষের অন্য রাজ্যে এসআইআর হলেও পশ্চিমবঙ্গেই কেন এত বিরোধিতা? আসলে তৃণমূল ভয় পেয়েছে যে তাদের আসল ভোটব্যাঙ্ক যদি বাদ চলে যায়, তবে ক্ষমতায় থাকা অসম্ভব।"
রুদ্রনীল আরও যোগ করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল এবং তাঁরা যথেষ্ট তথ্য সংগ্রহ করেই সঠিক বিচার করবেন।
এদিন অভিনেতা-নেতা সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বাংলার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বা টালিগঞ্জকে তৃণমূল দখলদারি করে কার্যত নষ্ট করে দিয়েছে। তাঁর মতে, গোটা পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখন দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। বিকেলে হাওড়ার সাঁকরাইলে একটি জনসভায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে রুদ্রনীল বলেন, "কেন্দ্র টাকা দিলেও আবাস যোজনার বাড়ি হয়নি, রাস্তাঘাটের দশা বেহাল। চারিদিকে শুধু নিকাশি সমস্যা আর দুর্নীতি।"
আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্য দল থেকে বিজেপিতে আসা নিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন রুদ্রনীল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো সৎ মানুষ বা ভালো অভিনেতা যদি বিজেপিতে আসতে চান, তবে তাঁর জন্য দরজা খোলা। হাওয়া বদলের সুযোগ নিতে আসা কোনো দুর্নীতিবাজ বা তৃণমূল সরকারের অন্ধ সমর্থকদের জন্য ভারতীয় জনতা পার্টির দরজা চিরতরে বন্ধ।
সাঁকরাইল ও সদর হাওড়ার এই জোরালো কর্মসূচির মাধ্যমে রুদ্রনীল ঘোষ স্পষ্ট করে দিলেন যে, আগামী নির্বাচনে এসআইআর এবং দুর্নীতিই হতে চলেছে বিজেপির প্রধান হাতিয়ার।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন